গোপালগঞ্জে পুলিশের গাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ: ৫৭৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা, আটক অন্তত ৪৫

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০২৫
  • ১৩৪ বার

প্রকাশ: ১৮ জুলাই | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গোপালগঞ্জে পুলিশি গাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সৃষ্ট উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই মাসের ঘোষিত পদযাত্রা কেন্দ্র করে সদরের খাটিয়াগড় চরপাড়া এলাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর সদস্যরা অভিযানে নামে। ঘটনার পরপরই দায়ের করা মামলায় ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়। এতে অভিযোগ করা হয়, তারা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

এই ঘটনায় গোপীনাথপুর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আহমদ বিশ্বাস বাদী হয়ে মামলা করেন। গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান শুক্রবার দুপুরে সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন ছাত্রলীগের নিষিদ্ধ ঘোষিত জেলা শাখার সভাপতি নিউটন মোল্লা এবং সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তারা এই সহিংস ঘটনার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ওসি সাজেদুর রহমান বলেন, “এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত সহিংসতা ছিল। সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আক্রমণ এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মত অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।” তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে গত বুধবার রাতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক হওয়া ১৪ জনকে সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আটকদের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।” বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা যায়, যদিও এর মধ্যে কতজনকে সরাসরি মামলার আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি।

গোপালগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “বৃহস্পতিবার ১৬ জনকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে ১২ জনকে ৫৪ ধারায় আদালতে উপস্থাপন করা হয় এবং আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।”

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গোপালগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ের এই ধরনের সহিংসতার ঘটনা এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শান্তিপূর্ণ পরিবেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এনসিপির ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এমন সহিংস পরিস্থিতি দেশের সার্বিক রাজনৈতিক আবহে নতুন করে উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও অনেকে মনে করছেন।

অন্যদিকে, ছাত্রলীগের অভিযুক্ত নেতাদের গ্রেপ্তারে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁদের আইনজীবীরা দাবি করছেন, গ্রেপ্তার করা হয়েছে পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক বিদ্বেষ থেকে এবং এসব নেতারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তবে পুলিশ বলছে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা হবে।

গোপালগঞ্জে এ ঘটনায় জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ প্রশাসনের প্রতি শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। এলাকাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, এবং আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে এখন গোটা জেলা।

সরকারি পক্ষ জানিয়েছে, জনস্বার্থে ও নিরাপত্তা রক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরও সক্রিয় থাকবে, এবং কেউ যদি ভবিষ্যতে সহিংসতার পথে যায়, তাহলে তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে শান্তিপূর্ণভাবে, সহিংসতা নয়।

এই ঘটনার ফলে নির্বাচন-পূর্ব সময়কালজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তরফ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে—আইনের শাসন বজায় রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।

| একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত