ইতালির প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় আসছেন ৩০ আগস্ট: অভিবাসন ও নিরাপত্তা ইস্যুতে বৈঠক ইউনূসের সঙ্গে

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ জুলাই, ২০২৫
  • ২৮ বার

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দীর্ঘ ২৭ বছর পর আবারও ঢাকায় পা রাখতে চলেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী। আগামী ৩০ আগস্ট বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় আসছেন ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলেনি। তার এই সফর শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালীন এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তাবাহী পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একজন শীর্ষ নেতার এটি হবে এই সময়ে প্রথম বাংলাদেশ সফর।

সূত্র জানায়, সফরের পরদিন, অর্থাৎ ৩১ আগস্ট, প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলেনি বৈঠকে বসবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে। এই বৈঠকে চারটি মূল খাতে সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হবে: অভিবাসন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা। বৈঠকের পরে অনুষ্ঠিত হবে একান্ত আলোচনা এবং মধ্যাহ্নভোজ, এবং এরপরই তার ঢাকা ত্যাগের কথা রয়েছে।

এই সফরটিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে অভিবাসন ইস্যুতে গত মে মাসে ইতালি ও বাংলাদেশের মধ্যে সই হওয়া ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড মোবিলিটি’ শীর্ষক চুক্তিকে সামনে রেখেই এই বৈঠকে সম্ভাব্য অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় এসেছিলেন ইতালির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রোমানো প্রোদি। সেটিই ছিল কোনো ইতালীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বাংলাদেশ সফর। সেই সফরের পর এত দীর্ঘ সময় পর আবারও এমন একটি উচ্চপর্যায়ের সফর বাংলাদেশের কূটনৈতিক পরিসরে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই ধারণা পর্যবেক্ষকদের।

মে মাসে সই হওয়া অভিবাসন সংক্রান্ত চুক্তির মাধ্যমে ইতালি বৈধ উপায়ে বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে। এ চুক্তিতে ‘সিজনাল’ এবং ‘নন-সিজনাল’—দুই ধরনের শ্রমিক নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। চুক্তির সময় বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রবাসীকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এবং ইতালির পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিয়ান্তেদোসি বলেছিলেন, “আমরা সবসময় বৈধ উপায়ে শ্রমিক আসাকে উৎসাহিত করি। এই সমঝোতার মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও বাড়বে।”

ইতোমধ্যে বাংলাদেশ থেকে কয়েক হাজার শ্রমিক ইতালিতে বৈধভাবে কাজের অনুমতি পেয়েছে, বিশেষ করে কৃষিশ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক ও আতিথেয়তা খাতে। তবে অবৈধ অভিবাসনের প্রবণতা কমাতে এবং নিরাপদ অভিবাসনের সুযোগ বৃদ্ধি করতেই এই চুক্তিকে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে দুই দেশ।

এদিকে এই সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ইতালি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কেও নতুন আলোচনা শুরু হবে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য এবং হস্তশিল্প ইতালিতে ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন। অন্যদিকে, ইতালি থেকে বাংলাদেশে আসে শিল্প যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক পণ্য ও ভোগ্য সামগ্রী। ফলে বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষা এবং নতুন বিনিয়োগ আহরণেও এ সফর হতে পারে একটি সম্ভাবনাময় সুযোগ।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও এই সফরকে ঘিরে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় তথ্য উপস্থাপন, কূটনৈতিক ব্রিফিং ও বৈঠকের এজেন্ডা চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক শিষ্টাচার রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সচেষ্ট থাকবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়সহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জর্জিয়া মেলেনির এই সফর শুধু বন্ধুত্বের নিদর্শন নয়, বরং ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক গভীরতর করার অন্যতম সুযোগ। বিশেষ করে বৈশ্বিক মন্দার সময়ে দক্ষ কর্মশক্তি রপ্তানি, বৈদেশিক বিনিয়োগের বিস্তার এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, তেমনি ইউরোপে বসবাসকারী বৃহৎ প্রবাসী বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষাও এই বৈঠকে প্রাধান্য পাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী এই সফর শেষ করে ওইদিনই ঢাকা ত্যাগ করার সম্ভাবনা থাকলেও, সফরটির প্রভাব আগামী কয়েক মাস জুড়ে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান থাকবে বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল। এখন অপেক্ষা ৩১ আগস্টের সেই বহুল প্রত্যাশিত বৈঠকের, যা বাংলাদেশ-ইতালি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটাতে পারে।
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত