উত্তরায় প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত: স্কুলভবনে আঘাতে ১১ নিহত, শতাধিক শিশু অগ্নিদগ্ধ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ জুলাই, ২০২৫
  • ৪১ বার

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আজ রাজধানীর উত্তরায় একটি স্কুলের ওপর বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জন নিহতের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে, এবং আহত হয়েছেন শতাধিক শিশু ও শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে অনেকেই আগুনে দগ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে সকাল ১০টার কিছু পরে, যখন একটি প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি স্কুল প্রাঙ্গণের একটি ভবনে আঘাত করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বিমানটি আঘাত হানার পরপরই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুরো ভবন কেঁপে ওঠে। স্কুল ভবনটির ওই অংশে মূলত নার্সারি থেকে শুরু করে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির ক্লাসগুলো চলছিল।

একজন শিক্ষক জানান, “একটা প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান সরাসরি বিল্ডিংয়ে আঘাত করে। সেটা জুনিয়র সেকশনের বিল্ডিংয়ে পড়ে, নার্সারি, ওয়ান, টু, থ্রি—এসব ক্লাস ওই বিল্ডিংয়ে হয়। বিল্ডিংয়ের গেটে একেবারে গর্ত হয়ে আগুন ধরে যায়।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, স্কুলের বাগানের পাশের একটি ভবনের নিচতলায় বিমানের ইঞ্জিনে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে, আর দমকল কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভবনের বিভিন্ন তলা থেকে ছোট ছোট শিশুদের কোলে করে বের করে আনছেন উদ্ধারকারীরা।

দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে নিরাপত্তা বেষ্টনীর মাধ্যমে। স্থানীয় জনগণ, অভিভাবক ও স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধারকাজে সহায়তা করছেন। আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। অনেকে মাটিতে পড়ে কাতরাচ্ছিল, তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশ আগুনে পুড়ে গিয়েছে।

বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রশিক্ষণের সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্কুল ভবনে আছড়ে পড়ে।

অভিভাবকরা সন্তানদের খোঁজে ছুটে এসেছেন স্কুল প্রাঙ্গণে, কেউ কেউ হাসপাতালে ছুটে গেছেন। অনেকেই এখনও জানেন না, তাঁদের সন্তান বেঁচে আছে কিনা। সামাজিক মাধ্যমে চোখের জলে ভেসে যাচ্ছে মানুষের প্রার্থনা ও ক্ষোভের পোস্ট।

সরকারিভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়েছে, যারা বিমান বিধ্বস্তের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণ করবে।

ঘটনাস্থলে এখনো উদ্ধার কাজ চলছে, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুরোধ করেছে, কেউ যেন গুজব না ছড়ায় এবং পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে।

এই ঘটনায় একটি স্কুল, শতাধিক পরিবার ও পুরো জাতি আজ শোকাহত। প্রশ্ন উঠছে, প্রশিক্ষণ বিমানের উড্ডয়ন কেন ঘনবসতিপূর্ণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর দিয়ে করা হলো—তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে তীব্র আলোচনা।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত