উত্তরায় বিমানবিধ্বস্তে নিহতদের স্মরণে দুপুরের পর বন্ধ থাকবে হাইকোর্টের বিচারকাজ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২২ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৪ বার
উত্তরায় বিমানবিধ্বস্তে নিহতদের স্মরণে দুপুরের পর বন্ধ থাকবে হাইকোর্টের বিচারকাজ

প্রকাশ: ২২শে জুলাই’ ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ বহু মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জাতি আজ শোকস্তব্ধ। এই হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্ট বিভাগ আজ মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে বিচারকাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সকাল ৯টার পর আপিল বিভাগের কার্যক্রম শুরুর সময় প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “জাতীয় শোক ও মানবিক বিবেচনায় আমরা আজকের দিনের বিচারিক কার্যক্রম দুপুরের পর স্থগিত রাখছি। আমরা নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”

বিধ্বস্তের এই ভয়াবহ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ, যাদের মধ্যে ২৫ জনই শিশু। এসব শিশু ছিল মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী, যারা প্রতিদিনের মতো তাদের পাঠ গ্রহণে অংশ নিচ্ছিল। সেই স্বপ্নময় শৈশব এক মুহূর্তে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আগুনের বিভীষিকায়। এ ছাড়া ৭৮ জন আহত হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন।

সোমবার দুপুর ১টার পরপরই উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আকাশ থেকে হঠাৎ নিচে নেমে আসা বিমানটি প্রচণ্ড শব্দে স্কুল ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ও আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। যে ভবনে এটি বিধ্বস্ত হয়, সেখানে ক্লাস চলাকালীন অনেক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। মুহূর্তেই স্কুল প্রাঙ্গণ রূপ নেয় মৃত্যুকূপে।

দুর্ঘটনার পরপরই দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো। উত্তরা, টঙ্গী, কুর্মিটোলা, মিরপুরসহ আশপাশের এলাকা থেকে অন্তত ৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে আহতদের রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার ভয়াবহতা এবং হতাহতের সংখ্যা এতটাই গভীর যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা, মানবাধিকার সংস্থা এবং নাগরিক সমাজ থেকে তীব্র শোক ও উদ্বেগ জানানো হয়েছে। জাতীয় সংসদে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনায় ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে—কীভাবে জনবহুল এলাকায় এমন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ প্রশিক্ষণ পরিচালিত হতে পারে এবং কেন পূর্বপ্রস্তুতি বা নিরাপত্তা বেষ্টনী যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

হাইকোর্টের বিচারকাজ স্থগিত রাখার এই সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের একটি সংবেদনশীল ও মানবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে দেশের সর্বোচ্চ আদালতও নিহত কোমল প্রাণগুলোর সম্মানে একটি শক্ত বার্তা দিচ্ছে—এই ট্র্যাজেডি আমাদের জাতিগতভাবে এক গভীর আঘাত দিয়েছে এবং আমরা সবাই সেই যন্ত্রণায় শরিক।

এই শোকের মুহূর্তে দেশের প্রতিটি মানুষের একটাই আবেদন—এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ তদন্ত হোক। দোষী কেউ যেন পার না পায়, এবং ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক বিপর্যয় রোধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

‘একটি বাংলাদেশ অনলাইন’ নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করছে এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য লাভের প্রার্থনা করছে। শোকের ছায়া ভেদ করে যেন আবারও আলোর পথে এগিয়ে যায় আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম—সেই প্রত্যাশাই রইল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত