প্রকাশ: ২২শে জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সোমবারের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পাশে সর্বশক্তি দিয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সরকার। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবার যেন দ্রুত ও সর্বোচ্চ সহায়তা পায়, তা নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
দুর্ঘটনার পরপরই ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বয়ে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল আগত প্রতিটি রোগীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যেসব হাসপাতালে গুরুতর আহত শিক্ষার্থীরা ভর্তি রয়েছে, সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
নিহতদের মধ্যে অনেকের মরদেহ আগুনে পুড়ে এমনভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে যে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে সরকার ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় শনাক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিমধ্যেই বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে ডিএনএ সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে এবং নিহতদের স্বজনদের সহায়তায় নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালাচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, এই অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় কোনো তথ্য গোপনের প্রশ্নই আসে না। বরং, ঘটনার স্বচ্ছ ও নির্ভুল প্রতিবেদন তৈরিতে সরকার, সেনাবাহিনী, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতালগুলো একযোগে কাজ করছে।
নিখোঁজদের বিষয়ে জানানো হয়েছে, বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের রেজিস্ট্রার খাতা, উপস্থিতি তালিকা ও অভিভাবকদের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এখনো কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে স্কুল প্রাঙ্গণে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে কেউ কিছু জানতে চাইলে বা তথ্য দিতে চাইলে সরাসরি ওই কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে—যদি তাদের পরিচিত কেউ এখনো নিখোঁজ থাকেন, তাহলে দ্রুত বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহায়তা করার।
এই দুর্ঘটনায় সমগ্র দেশ আজ শোকে স্তব্ধ। রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক প্রকাশের অংশ হিসেবে হাইকোর্টের বিচারিক কার্যক্রম দুপুরের পর থেকে স্থগিত রাখা হয়েছে, একইসাথে আজকের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও স্থগিত ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। জাতির এই বেদনার মুহূর্তে সরকার ও প্রশাসন সব রকমের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে জানানো হয়েছে।
একটি বাংলাদেশ অনলাইনের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শোক, এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হচ্ছে। সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা যেন সত্যিকার অর্থে বাস্তবায়িত হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যেন ন্যায়বিচার ও প্রাপ্য সহায়তা পান—এই প্রত্যাশা সকলের।









