প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা দৌড়ে প্রতিটি ম্যাচ এখন ম্যানচেস্টার সিটির জন্য একেকটি ফাইনালের মতো। সম্প্রতি আর্সেনালের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছিল দলটি। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। বার্নলির বিপক্ষে ম্যাচে নামার ঠিক আগে বড় ধাক্কা খেল পেপ গার্দিওলার দল। দলের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা, ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী রদ্রি ইনজুরির কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারছেন না।
গত রোববার আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল সিটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা বজায় ছিল। কিন্তু সেই ম্যাচের ৮৮ মিনিটে হঠাৎ করেই কুঁচকির চোটে পড়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন রদ্রি। তার চোটের মুহূর্তটি শুধু দর্শকদেরই নয়, সিটি শিবিরেও উদ্বেগ তৈরি করে। কারণ, গত কয়েক মৌসুমে দলের সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখা খেলোয়াড়দের একজন তিনি।
মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা নিশ্চিত করেন, রদ্রি বার্নলির বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে পারবেন না। তার কণ্ঠে ছিল কিছুটা হতাশা, তবে বাস্তবতার স্বীকৃতিও। তিনি জানান, রদ্রির ইনজুরি খুব বেশি গুরুতর না হলেও এখনই তাকে ঝুঁকি নিয়ে মাঠে নামানো সম্ভব নয়। চিকিৎসক দল তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে এবং ধীরে ধীরে তাকে সুস্থ করে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এই অনুপস্থিতি শুধু একটি ম্যাচেই সীমাবদ্ধ নয় বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন গার্দিওলা। সামনে এফএ কাপ সেমিফাইনাল এবং প্রিমিয়ার লিগের আরও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে, যেখানে রদ্রির অংশগ্রহণ এখনও অনিশ্চিত। কোচের ভাষায়, তার মাঠে ফেরা নির্ভর করছে পুরোপুরি তার পুনরুদ্ধারের গতির ওপর। ফলে সিটির মিডফিল্ডে একটি বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা পূরণ করা সহজ হবে না।
রদ্রি গত কয়েক বছরে ম্যানচেস্টার সিটির মাঝমাঠে যে প্রভাব রেখেছেন, তা পরিসংখ্যানের বাইরেও অনেক কিছু বলে। তার উপস্থিতি দলের খেলার ছন্দ, রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে ভারসাম্য এবং বলের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে। বড় ম্যাচগুলোতে তার পারফরম্যান্স প্রায়শই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করেছে। তাই এমন একজন খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি দলের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে সিটির শক্তির জায়গা হলো তাদের গভীর স্কোয়াড। রদ্রির অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত আছেন নিকো গনজালেস। গার্দিওলা তার ওপর আস্থা রাখছেন এবং জানিয়েছেন, আগেও সুযোগ পেলে নিকো নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তিনি বলেন, রদ্রি না থাকলেও দলকে এগিয়ে নিতে নিকো সক্ষম এবং তার ওপর দলের পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে।
শুধু মাঝমাঠেই নয়, রক্ষণভাগেও সমস্যায় পড়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার রুবেন দিয়াসও ইনজুরির কারণে বার্নলির বিপক্ষে খেলতে পারবেন না। গোড়ালির চোটে ভুগছেন তিনি, যা সিটির রক্ষণকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে। একসঙ্গে দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি গার্দিওলার জন্য কৌশলগত দিক থেকে নতুন করে ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে বার্নলির বিপক্ষে ম্যাচটি সিটির জন্য সহজ হবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও কাগজে-কলমে সিটি শক্তিশালী দল, তবুও ইনজুরি সমস্যার কারণে তাদের পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে মাঝমাঠে রদ্রির অভাব খেলার গতি নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে, বার্নলি এই সুযোগটি কাজে লাগাতে চাইবে। বড় দলের বিপক্ষে খেলার সময় তারা সাধারণত রক্ষণাত্মক কৌশল গ্রহণ করে এবং পাল্টা আক্রমণে ভরসা রাখে। সিটির মূল খেলোয়াড়রা না থাকায় তারা কিছুটা বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামতে পারে।
এই মৌসুমে শিরোপা দৌড় অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর্সেনাল, লিভারপুল এবং ম্যানচেস্টার সিটির মধ্যে প্রতিটি পয়েন্টই এখন গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে ইনজুরি সঙ্কট কোনো দলের জন্যই সুখকর নয়। সিটির জন্য এটি আরও বেশি উদ্বেগের, কারণ তারা একাধিক প্রতিযোগিতায় লড়ছে।
গার্দিওলা অবশ্য তার দলের মানসিকতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। তিনি মনে করেন, বড় দল হিসেবে সিটি যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম। তার মতে, এই ধরনের পরিস্থিতিই একটি দলের গভীরতা ও মানসিক শক্তির পরীক্ষা নেয়। খেলোয়াড়দের প্রতি তার বার্তা পরিষ্কার—যারা মাঠে নামবে, তাদের সেরাটা দিতে হবে।
সব মিলিয়ে, বার্নলির বিপক্ষে ম্যাচের আগে ম্যানচেস্টার সিটির পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে উঠেছে। রদ্রি ও রুবেন দিয়াসের অনুপস্থিতি দলের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ফুটবল সবসময়ই অনিশ্চয়তার খেলা, যেখানে প্রতিকূলতাকে জয় করেই বড় দলগুলো নিজেদের প্রমাণ করে। এখন দেখার বিষয়, এই চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে সিটি কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং শিরোপা দৌড়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারে কিনা।