হরমুজ প্রণালিতে এক দিনে তিন জাহাজে গুলি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪ বার
হরমুজে এক দিনে তিন জাহাজে হামলা

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে একদিনে অন্তত তিনটি বাণিজ্যিক কনটেইনার জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। ঘটনার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌপরিবহন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এই হামলাগুলো ঘটেছে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন সংবেদনশীল নৌপথে, যা বিশ্ব জ্বালানি ও বাণিজ্য পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Strait of Hormuz হলো এমন একটি সংকীর্ণ নৌপথ, যার মাধ্যমে বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি পরিবহন হয়ে থাকে। ফলে এখানে যে কোনো ধরনের সংঘাত বা হামলা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

ইউকেএমটিও জানায়, ওমানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কাছাকাছি একটি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজে প্রথম হামলার ঘটনা ঘটে। জাহাজটিতে গুলি ও রকেটচালিত গ্রেনেড (আরপিজি) নিক্ষেপ করা হয় বলে জানানো হয়েছে। এতে জাহাজের ব্রিজ বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নাবিকরা নিরাপদে আছেন এবং বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা পরিবেশগত ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।

জাহাজটির ক্যাপ্টেনের বরাতে জানানো হয়, হামলার সময় একটি নৌযান তাদের খুব কাছাকাছি চলে আসে। সেই নৌযানটিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একটি গানবোট হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এতে তিনজন আরোহী ছিলেন এবং সেখান থেকেই গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়। হামলার আগে কোনো ধরনের রেডিও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি বলেও ক্যাপ্টেন দাবি করেন, যদিও জাহাজটিকে প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

Islamic Revolutionary Guard Corps এই ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা নিয়ে সরাসরি কিছু জানায়নি, তবে একই নৌপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল বলে একটি দাবি সামনে এসেছে। জাহাজটি সতর্কতা উপেক্ষা করায় হামলা চালানো হয়েছে বলে আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয় বলে বিভিন্ন সূত্র উল্লেখ করেছে।

একই দিনে আরও একটি পানামা-নিবন্ধিত কনটেইনার জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটে। ইউকেএমটিও জানায়, ইরানের পশ্চিমাঞ্চল থেকে প্রায় ৮ নটিক্যাল মাইল দূরে ওই জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। তবে সৌভাগ্যবশত এই জাহাজেও কোনো বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি এবং এর নাবিকরাও নিরাপদ রয়েছেন।

তৃতীয় একটি জাহাজে হামলার বিষয়ে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র নিশ্চিত করেছে, যদিও বিস্তারিত তথ্য এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। একাধিক জাহাজে একই দিনে হামলার এই ঘটনা হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ঘটনা শুধু আঞ্চলিক উত্তেজনা নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা হয়। কোনো ধরনের সংঘাত বা নৌবাহিনীর অভিযান এই সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে পারে।

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি, পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রাজনৈতিক টানাপোড়েন এই পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। ফলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখন আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

অন্যদিকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাহাজ চলাচলের সময় আন্তর্জাতিক নৌআইন অনুযায়ী স্পষ্ট যোগাযোগ ও সতর্কতা দেওয়া জরুরি। কিন্তু এই ঘটনায় সেই প্রটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। অনেক কোম্পানি বিকল্প রুট ব্যবহার নিয়েও চিন্তাভাবনা শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

বিশ্ব অর্থনীতির ওপর এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও আলোচনা চলছে। বিশেষ করে তেলের দাম, বীমা খরচ এবং শিপিং চার্জ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কিছু বাজারে অস্থিরতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নৌযানগুলোকে সতর্ক অবস্থায় চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে টানটান পরিস্থিতি থাকায় আন্তর্জাতিক মহল এখন সম্ভাব্য উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে কি না, সে বিষয়ে নজর রাখছে।

বিশ্ব রাজনীতি ও বাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে একদিনে একাধিক হামলার ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—এই নৌপথে স্থিতিশীলতা কতটা নিরাপদ এবং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত