প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানী ও এর আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আগামীকাল শুক্রবার থেকে টানা ২৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এই সময়সূচি অনুযায়ী নির্দিষ্ট এলাকায় গ্যাস ব্যবহারকারী বাসাবাড়ি, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের চরম ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ৭টা থেকে শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৭টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। এই সময়ে ঢাকা ও আশপাশের বহু গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকা, আবাসিক অঞ্চল এবং বাণিজ্যিক জোনে গ্যাস থাকবে না। একই সঙ্গে কিছু এলাকায় স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আশুলিয়া টিবিএস থেকে বাইপাইল পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশের এলাকা এই সময় গ্যাসবিহীন থাকবে। একই সঙ্গে ঢাকা ইপিজেড, মালঞ্চ পাওয়ার প্ল্যান্ট, বেক্সিমকো শিল্প কমপ্লেক্স, কাশিমপুর, সারদাগঞ্জ, হাজী মার্কেট, শ্রীপুর, চন্দ্রা, নবীনগর, সাভার টাউন, সাভার ক্যান্টনমেন্টসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকাও এই বন্ধের আওতায় পড়বে।
এছাড়া সাভারের ডলাইল, ব্যাংক টাউন, রেডিও কলোনি, কলমা, দোসাইদ, কুমকুমারী, আক্রান, চারাবাগ, বড় আশুলিয়া, টঙ্গাবাড়ি, কাঠগড়া, জিরাবো, গাজীরচট, নয়াপাড়া, দেওয়ান ইদ্রিস সড়কের উভয় পাশ, নয়ারহাট, বলিভদ্রপুর, পল্লীবিদ্যুত, ডেন্ডারবর, ভাদাইল, লতিফপুর, মানিকগঞ্জসহ আরও কয়েকটি সংলগ্ন এলাকাও একই সময়ে গ্যাস সংযোগবিচ্ছিন্ন থাকবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই ধরনের সাময়িক গ্যাস সরবরাহ বন্ধ সাধারণত রক্ষণাবেক্ষণ, লাইন মেরামত অথবা অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজের কারণে করা হয়। যদিও বিজ্ঞপ্তিতে সুনির্দিষ্টভাবে কাজের ধরন উল্লেখ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতেই এই ধরনের শাটডাউন প্রয়োজন হয়।
গ্যাস বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে আবাসিক ব্যবহারকারীদের ওপর। রান্নাবান্না, দৈনন্দিন কাজ এবং গৃহস্থালির স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। একই সঙ্গে শিল্প এলাকায় উৎপাদন কার্যক্রমেও ধীরগতি দেখা দিতে পারে, যা অর্থনৈতিক দিক থেকেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চলের তৈরি পোশাক শিল্প ও অন্যান্য উৎপাদনমুখী কারখানাগুলো এই সময় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। কারণ এই অঞ্চলে হাজার হাজার শ্রমিক নির্ভর শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে গ্যাস সরবরাহ উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সাময়িক অসুবিধার জন্য তারা গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি নাগরিকদের আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে জরুরি কাজগুলো বিকল্প ব্যবস্থায় সম্পন্ন করা যায়।
শহরবাসীর মধ্যে এই ঘোষণা নিয়ে ইতোমধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, নিয়মিতভাবে এই ধরনের পরিকল্পিত শাটডাউন হলেও আগাম প্রস্তুতির মাধ্যমে ভোগান্তি কিছুটা কমানো সম্ভব। আবার অনেকেই মনে করছেন, গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে গ্যাস নির্ভরতা এখনও অনেক বেশি। বিশেষ করে রান্না ও শিল্প উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর ব্যাপক নির্ভরশীলতা রয়েছে। তাই সাময়িকভাবে সরবরাহ বন্ধ হলেও তার প্রভাব ব্যাপক আকার ধারণ করে। ভবিষ্যতে এলএনজি বা বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার প্রসার বাড়ানো গেলে এ ধরনের পরিস্থিতিতে চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।
এদিকে, নগরবাসীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ২৪ ঘণ্টার এই সময়টিকে কীভাবে সামাল দেওয়া যায়। বিশেষ করে যেসব পরিবার সম্পূর্ণভাবে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এটি একটি বড় অসুবিধার সময় হয়ে দাঁড়াবে। অনেকেই ইতোমধ্যে বিকল্প রান্নার ব্যবস্থা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ে আশা করা হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হলে শনিবার সকাল থেকে ধীরে ধীরে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তবে স্বল্পচাপের সমস্যা কিছু এলাকায় কিছু সময় ধরে থাকতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই ২৪ ঘণ্টার গ্যাস বন্ধের সিদ্ধান্ত যদিও প্রযুক্তিগত ও রক্ষণাবেক্ষণগত কারণে নেওয়া হয়েছে, তবে তা নগরজীবনে সাময়িক অস্বস্তি তৈরি করবে তা নিশ্চিত। এখন দেখার বিষয়, এই সময়কে কতটা দক্ষতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা করা যায় এবং ভোগান্তি কতটা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।