বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বৃদ্ধি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২ বার
বাস ভাড়া বৃদ্ধি বাংলাদেশ

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের পরিবহন খাতে আবারও ভাড়া সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে দূরপাল্লার বাস এবং আন্তঃজেলার পরিবহনে প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা করে ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে শ্রমিক-মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান জ্বালানি তেলের মূল্য, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং সামগ্রিক পরিচালন খরচ বিবেচনায় নিয়ে এই ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে। তিনি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটসহ দূরপাল্লার বাসে এখন থেকে প্রতি কিলোমিটারে অতিরিক্ত ১১ পয়সা ভাড়া কার্যকর হবে। একইভাবে আন্তঃজেলা রুটেও এই হার প্রযোজ্য হবে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে পরিবহন খাতে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি তেলের দাম, যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিচালন ব্যয় বাড়ার কারণে পরিবহন মালিকরা ভাড়া পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে সেই দাবির আংশিক সমাধান হিসেবে এই সমন্বয় ঘোষণা করা হলো।

পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান বাস্তবতায় প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বৃদ্ধি খুব বড় অঙ্ক না হলেও, দীর্ঘ দূরত্বে এর প্রভাব যাত্রীদের উপর কিছুটা পড়বে। বিশেষ করে নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীরা এতে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ অনুভব করতে পারেন।

অন্যদিকে পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের মূল্য স্থিতিশীল না থাকলে এই ধরনের সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে পড়ে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে বাস চালাতে গিয়ে অনেক মালিক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। নতুন সিদ্ধান্ত কিছুটা হলেও তাদের স্বস্তি দেবে।

যাত্রী অধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে অবশ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তারা বলছেন, ভাড়া সমন্বয় স্বাভাবিক হলেও সেটি যেন যাত্রীবান্ধব ও স্বচ্ছ হিসাবের ভিত্তিতে হয়। বারবার ভাড়া পরিবর্তন সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে এবং দৈনন্দিন ব্যয়ের ওপর চাপ ফেলে।

সচিবালয়ের বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী আরও জানান, ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকার সব পক্ষের মতামত বিবেচনা করেছে। তিনি বলেন, পরিবহন খাত দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাই এখানে ভারসাম্য রক্ষা করাই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি আরও জানান, ভাড়া কার্যকরের বিষয়টি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে এবং কোনো অনিয়ম বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাত্রীদের অধিকার রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, জ্বালানি মূল্য এবং পরিবহন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাড়া সমন্বয় একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হওয়া উচিত। তবে সেটি যেন হঠাৎ করে না হয়, বরং পূর্বানুমানযোগ্য নীতির ভিত্তিতে হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরের মধ্যে প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। ফলে এই দুই রুটে ভাড়া পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনে পড়ে। বিশেষ করে চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের জন্য যাতায়াত ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

যাত্রীদের মধ্যে কেউ কেউ জানিয়েছেন, সামান্য পরিমাণ ভাড়া বৃদ্ধি হলেও মাস শেষে তা উল্লেখযোগ্য খরচে পরিণত হয়। আবার অনেকে মনে করছেন, জ্বালানি খরচ বাড়লে ভাড়া সমন্বয় স্বাভাবিক, তবে এটি যেন যৌক্তিক সীমার মধ্যে থাকে।

পরিবহন খাত বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থায় ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই একটি অস্থিরতা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের জ্বালানি মূল্য ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার এবং অভ্যন্তরীণ খরচ সবকিছু মিলিয়ে এই খাত প্রায়ই চাপের মধ্যে থাকে।

তারা আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদে একটি স্বয়ংক্রিয় ভাড়া সমন্বয় নীতি প্রণয়ন করা হলে এই ধরনের হঠাৎ সিদ্ধান্তের প্রয়োজন কমে আসবে এবং যাত্রী ও মালিক উভয় পক্ষই পূর্বানুমান করতে পারবে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবহন খাতকে আধুনিক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভাড়া নির্ধারণ, টিকিটিং ব্যবস্থা এবং সেবা মান উন্নয়নে আরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে, প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত পরিবহন খাতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। একদিকে মালিকদের কিছুটা স্বস্তি, অন্যদিকে যাত্রীদের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ—এই দুইয়ের ভারসাম্যের মধ্যেই এখন এগোতে হবে দেশের পরিবহন ব্যবস্থাকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত