মৃত্যুর আগে নবী (সা.)-এর শেষ দুই দোয়া

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮ বার
মৃত্যুর আগে নবী (সা.)-এর শেষ দুই দোয়া

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মানবজীবনের সবচেয়ে অবধারিত সত্য মৃত্যু। জন্মের পর প্রতিটি মানুষকেই একদিন এই পৃথিবী ছেড়ে যেতে হবে। জীবনের সব অর্জন, সম্পর্ক, সম্পদ ও স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত থেমে যায় এই এক অনিবার্য বাস্তবতায়। কিন্তু একজন মুমিনের জন্য মৃত্যুর মুহূর্ত কেবল বিদায়ের নয়, বরং আল্লাহর সান্নিধ্যে ফিরে যাওয়ার এক আধ্যাত্মিক যাত্রা। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, এই সময় মানুষের অন্তর, চিন্তা ও প্রার্থনা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

এই প্রেক্ষাপটে মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো মুসলমানদের জন্য গভীর শিক্ষা ও অনুপ্রেরণার উৎস। ইসলামী বর্ণনায় উল্লেখ আছে, মৃত্যুর কঠিন মুহূর্তেও তিনি আল্লাহর কাছে ক্ষমা, রহমত এবং উত্তম সঙ্গ কামনা করে দোয়া করেছিলেন।

হজরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী (সা.) মৃত্যুর আগে তার নিকট হেলান দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া পাঠ করেছিলেন। সেই দোয়ায় তিনি আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনা করেন এবং পরকালে উত্তম সঙ্গ লাভের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন। দোয়াটি হলো—

“আল্লাহুম্মাগফিরলি ওয়ারহামনি ওয়া আলহিকনি বিররাফিকিল আলা।”

এই দোয়ার অর্থ হলো—“হে আল্লাহ, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন এবং আমাকে সর্বোচ্চ মর্যাদার সাথীদের সঙ্গে মিলিত করুন।”

ইসলামী ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘রাফিকুল আলা’ দ্বারা বোঝানো হয়েছে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরের সৎ ও নেক বান্দাদের সঙ্গ, যা মূলত আল্লাহর নৈকট্যের প্রতীক।

সহিহ বুখারিতে (হাদিস নং ৪৪৪৭) এই দোয়ার উল্লেখ পাওয়া যায়, যা মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে বিবেচিত।

আরও একটি বর্ণনায় হজরত আয়েশা (রা.) উল্লেখ করেন, মৃত্যুর সময় মহানবী (সা.) অত্যন্ত কষ্ট ও দুর্বল অবস্থায় ছিলেন। সেই সময় তিনি একটি পানির পাত্র থেকে হাত ভিজিয়ে মুখ মুছছিলেন এবং আল্লাহর কাছে আরেকটি দোয়া করছিলেন। সেই দোয়াটি হলো—

“আল্লাহুম্মা আয়িন্নি আলা গামারাতিল মাউতি আও সাকারাতিল মাউতি।”

এর অর্থ হলো—“হে আল্লাহ, মৃত্যুর কঠিন যন্ত্রণা ও বিভীষিকা থেকে আপনি আমাকে সাহায্য করুন এবং রক্ষা করুন।”

এই বর্ণনাটি সহিহ বুখারি (হাদিস নং ৪৪৪০) এবং সহিহ মুসলিম (হাদিস নং ৬২৯৩)-এ পাওয়া যায়। ইসলামী আলেমদের মতে, এই দোয়া মৃত্যুর সময় মানবিক দুর্বলতা, কষ্ট ও ভয় থেকে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনার একটি গভীর উদাহরণ।

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এই দুই দোয়ার মূল বার্তা হলো তিনটি বিষয়—আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া, তাঁর রহমতের প্রত্যাশা করা এবং মৃত্যুর কঠিন যন্ত্রণা থেকে নিরাপত্তা কামনা করা। মহানবী (সা.) যিনি মানবজাতির জন্য সর্বোচ্চ আদর্শ, তিনিও জীবনের শেষ মুহূর্তে পার্থিব কোনো কিছু নয়, বরং পরকালীন কল্যাণ ও আল্লাহর নৈকট্যকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। মৃত্যু যতই কঠিন হোক না কেন, একজন মুমিনের প্রধান আশ্রয় হওয়া উচিত আল্লাহর রহমত। জীবনের শেষ মুহূর্তেও ঈমান, দোয়া এবং আল্লাহর প্রতি ভরসা একজন মানুষকে চূড়ান্ত সফলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

ইসলামিক স্কলাররা আরও বলেন, এই দোয়াগুলো শুধু মৃত্যুর সময়ের জন্য নয়, বরং জীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তেও পাঠ করা যেতে পারে। কারণ এতে রয়েছে আল্লাহর সাহায্য চাওয়ার গভীর শিক্ষা এবং আত্মার প্রশান্তি অর্জনের বার্তা।

বিশ্বজুড়ে মুসলিম সমাজে এই দোয়াগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পড়া হয়, বিশেষ করে অসুস্থ বা সংকটময় অবস্থায় থাকা মানুষের জন্য এটি এক ধরনের আধ্যাত্মিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

মানবজীবনের অনিশ্চয়তার মাঝে এই দোয়াগুলো মনে করিয়ে দেয়, শেষ পর্যন্ত মানুষের প্রকৃত আশ্রয় আল্লাহর দয়া ও ক্ষমা। পার্থিব জীবনের সব কিছুই ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু ঈমান ও দোয়ার মাধ্যমে মানুষ পরকালীন মুক্তির পথে এগিয়ে যেতে পারে।

মহানবী (সা.)-এর এই শেষ দোয়া দুটি শুধু ইতিহাস নয়, বরং প্রতিটি মুসলমানের জীবনের জন্য এক গভীর শিক্ষার বার্তা। এটি মনে করিয়ে দেয়, জীবনের শেষ মুহূর্তেও আল্লাহর প্রতি ভরসা ও বিনয়ই একজন মানুষের প্রকৃত সফলতার চাবিকাঠি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত