প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের বাজারে আবারও পরিবর্তন এসেছে স্বর্ণ ও রুপার দামে। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা এবং স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার মূল্যের পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে মূল্যবান এই ধাতু দুটির দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) থেকে নতুন নির্ধারিত দামে স্বর্ণ ও রুপা বিক্রি শুরু হয়েছে, যা কার্যকর হয় সকাল ১০টা থেকেই।
বাজুসের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা এবং রুপার দাম ৩৫০ টাকা কমানো হয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামের পরিবর্তন এবং স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেই এই সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকায়। একইভাবে ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকায়।
স্বর্ণের দামে এই পরিবর্তন বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জুয়েলারি দোকানে নতুন দরে লেনদেন শুরু হয়েছে। অনেক ক্রেতা দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করলেও, বারবার মূল্য পরিবর্তনে বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে বলে মত দিয়েছেন অনেকে।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে সর্বশেষ গত ১৫ এপ্রিল স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যখন ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও দাম কমায় বাজারে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দামে মোট ৫৬ দফা সমন্বয় হয়েছে, যার মধ্যে ৩২ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২৪ বার কমানো হয়েছে। এর আগের বছর ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার দামের সমন্বয় করা হয়, যা দেশের স্বর্ণবাজারের অস্থিরতার চিত্রই তুলে ধরে।
অন্যদিকে রুপার বাজারেও দেখা গেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। সর্বশেষ সমন্বয়ের পর ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৭১৫ টাকায়। ২১ ক্যারেট রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৪৯৯ টাকায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ডলারের মূল্য ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশেও এই প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপীয় বাজারে স্বর্ণের দামে ওঠানামা দেশের বাজারকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।
জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঘন ঘন দামের পরিবর্তন তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় জটিলতা তৈরি করছে। একদিকে ক্রেতারা অপেক্ষা করছেন দাম আরও কমার আশায়, অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা স্থিতিশীল বাজার প্রত্যাশা করছেন। এতে করে ক্রয়-বিক্রয়ে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ক্রেতাদের মধ্যে অনেকেই জানান, স্বর্ণ ও রুপার দাম হঠাৎ করে কমলেও দীর্ঘমেয়াদে এই অস্থিরতা তাদের জন্য অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে বিয়ে বা বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য যারা স্বর্ণ কিনতে চান, তারা অনেক সময় দ্বিধায় পড়ছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বর্ণ ও রুপার বাজার কেবল অভ্যন্তরীণ চাহিদার ওপর নির্ভর করে না, বরং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই বৈশ্বিক বাজার স্থিতিশীল না হলে দেশের বাজারেও এই ধরনের ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।
তারা আরও বলেন, বাংলাদেশে স্বর্ণ সাধারণত বিনিয়োগ ও সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়, তাই দাম কমলে চাহিদা বাড়ে এবং দাম বাড়লে চাহিদা কমে যায়। এই ভারসাম্যহীনতা বাজারে নিয়মিত পরিবর্তনের একটি প্রধান কারণ।
বাজুস জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়মিতভাবে দাম পুনর্নির্ধারণ করা হবে। তবে তারা আশা করছে, ধীরে ধীরে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরে আসবে।
সব মিলিয়ে দেশের স্বর্ণ ও রুপার বাজারে নতুন করে যে সমন্বয় হয়েছে, তা একদিকে ক্রেতাদের কিছুটা স্বস্তি দিলেও, অন্যদিকে ঘন ঘন পরিবর্তনের কারণে বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।