সাফ জয়ের পর নতুন লক্ষ্য এএফসি মূলপর্ব: আত্মবিশ্বাসে উচ্ছ্বসিত সাগরিকারা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০২৫
  • ৩০ বার
সাফ জয়ের পর নতুন লক্ষ্য এএফসি মূলপর্ব: আত্মবিশ্বাসে উচ্ছ্বসিত সাগরিকারা

প্রকাশ: ২৩শে জুলাই, ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

তারা সবে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি ঘরে তুলেছে। সারা দেশ জুড়ে চলছে প্রশংসার ঢল। রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের কনফারেন্স হলে মঙ্গলবার দেখা গেল সেই স্বপ্ন জয়ের নায়িকাদের—হাসিমুখে, আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। প্রশান্তির ছায়া চোখে-মুখে। তবে উদযাপন শেষ হতেই নতুন স্বপ্নের পথচলায় পা রাখছে বাংলাদেশের তরুণী ফুটবলাররা। এবার তাদের লক্ষ্য আরও বড়—এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের মূলপর্ব।

এই টুর্নামেন্টের বাছাইপর্ব শুরু হবে আগামী ২ আগস্ট থেকে। চলবে ১০ আগস্ট পর্যন্ত। বাংলাদেশ খেলবে ‘ডি’ গ্রুপে। সেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে স্বাগতিক লাওস, শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়া এবং তুলনামূলক দুর্বল তিমুরলেস্তে। আটটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল এবং সেরা তিনটি রানার্সআপ দল পাবে আগামী বছরের এপ্রিলে অনুষ্ঠিতব্য মূলপর্বে খেলার টিকিট।

সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর দলের মধ্যে এক নতুন আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার হয়েছে। খেলোয়াড়দের শরীরে যেমন ছন্দ, তেমনি চোখেমুখে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের প্রস্তুতি স্পষ্ট। দলীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ এবং মানসিকভাবে দৃঢ় এক তরুণ দল হয়ে উঠেছে সাগরিকার নেতৃত্বাধীন এই অনূর্ধ্ব-২০ দলটি।

বাংলাদেশ নারী দলের বর্তমান ফরোয়ার্ড সাগরিকা, যার ফুটবল দর্শনের অনুপ্রেরণা ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি নেইমার, জানালেন তিনি নিজের ড্রিবলিং স্কিলে আরও উন্নতি করেছেন। তার মতে, এই উন্নতির পেছনে রয়েছে কোচদের নিরলস প্রশিক্ষণ এবং দলের পরিবেশ। শুধু সাগরিকাই নয়, পুরো দলেরই সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নজর কাড়ার মতো। গত সাফে তারা মাঠে দেখিয়েছে চাপ সামলে কিভাবে গোছানো আক্রমণ ও রক্ষণে ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়।

এই অর্জনের পেছনে রয়েছে ধারাবাহিক পরিশ্রম এবং জাতীয় নারী দলের সাম্প্রতিক সাফল্য। গত মাসেই বাংলাদেশ সিনিয়র নারী দল প্রথমবারের মতো এএফসি এশিয়ান কাপে খেলার সুযোগ নিশ্চিত করেছে। ঋতুপর্ণা-রুপনাদের এই পথচলা এখন অনুজদের জন্য অনুপ্রেরণা। অনূর্ধ্ব-২০ দল এখন সেই পথ অনুসরণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

বাফুফের নারীদের বিভাগও এই প্রস্তুতির পেছনে সর্বোচ্চ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দলকে একত্রে রেখে, উন্নত ফিটনেস ক্যাম্প ও ট্যাকটিকাল প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে আসন্ন এএফসি বাছাইয়ের জন্য। সংশ্লিষ্ট কোচিং স্টাফ এবং ব্যবস্থাপনার মতে, দলটির মধ্যে রয়েছে গভীরতা, ভারসাম্য এবং মাঠে নিজেদের পরিকল্পনা কার্যকর করার মতো দৃঢ়তা।

সামনের প্রতিপক্ষদের কথা মাথায় রেখে বিশ্লেষকরা বলছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দল বিশ্বমঞ্চে অভ্যস্ত হলেও বাংলাদেশ যদি বাকি দুই দলের বিপক্ষে জয় তুলে নিতে পারে এবং কোরিয়ার বিপক্ষে সম্মানজনক পারফরম্যান্স দেখাতে পারে, তবে রানার্সআপ হিসেবেও মূলপর্বে খেলার সুযোগ থেকে যায়।

তরুণ এই দল জানে, সাফের জয় ছিল শুরু মাত্র। এএফসি মূলপর্বে পৌঁছানো মানে শুধু আরও একটি টুর্নামেন্ট খেলা নয়, বরং আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের নারীদের অবস্থান আরও দৃঢ় করা। আর এই লক্ষ্য পূরণে, সাগরিকা-শান্তিদের চোখে রয়েছে দৃঢ়তা, পায়ে রয়েছে ছন্দ, আর হৃদয়ে আছে এক অদম্য লড়াইয়ের স্পৃহা।

দেশবাসীর কাছেও এখন প্রত্যাশা একটাই—এই মেয়েরা যেন বিশ্বমঞ্চের আরও বড় অর্জনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। সাফ ট্রফির উল্লাসকে এবার তারা পরিণত করতে চায় এশিয়ার মঞ্চে সম্মানের অভিযাত্রায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত