এশিয়া কাপের আগে আরেকটি সিরিজ খেলতে চায় বাংলাদেশ: লিটনের কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস ও প্রস্তুতির বার্তা

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৯ বার
এশিয়া কাপের আগে আরেকটি সিরিজ খেলতে চায় বাংলাদেশ লিটনের কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস ও প্রস্তুতির বার্তা

প্রকাশ: ২৫ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল সম্প্রতি টানা সিরিজ খেলার মধ্য দিয়ে ব্যস্ততম সময় কাটিয়ে এখন অপেক্ষাকৃত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। গত দুই মাসে চারটি আন্তর্জাতিক সিরিজে অংশ নিয়ে দুটি সিরিজ জিতে আত্মবিশ্বাস কিছুটা ফিরে পেয়েছে দল। তবে সামনে এশিয়া কাপ, যা এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের মঞ্চ। সেই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখেই অধিনায়ক লিটন দাস প্রকাশ করেছেন নিজের একটি প্রত্যাশা—এশিয়া কাপের আগে অন্তত আরও একটি আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলার সুযোগ চান তিনি।

শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ দুই সিরিজে পূর্ণ শক্তির দল পেয়ে পারফরম্যান্সে উন্নতি লক্ষ করা গেছে। শেষ ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে লিটন বলেন, “আমরা যখন আরব আমিরাত আর পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দফায় খেলেছি, তখন আমাদের সেরা স্কোয়াডটা পাইনি। কিন্তু শেষ দুই সিরিজে আমরা পূর্ণ শক্তির দল পেয়েছি এবং সেটি পারফরম্যান্সে পরিষ্কারভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। আমরা দেখাতে পেরেছি যে, আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি।”

এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন লিটন দাস। বলেন, “আমাদের লক্ষ্য থাকবে, নিয়মিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে এই মান ধরে রাখা। খেলোয়াড়দের ছন্দে রাখার জন্য এশিয়া কাপের আগে আরেকটি সিরিজ খেলা খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।”

এদিকে বোলিং পারফরম্যান্স নিয়েও মতামত দিয়েছেন অধিনায়ক। নতুন বলে ভালো শুরুর প্রশংসা করলেও ডেথ ওভারে উন্নতির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন তিনি। লিটনের ভাষায়, “আমার কাছে মনে হয়েছে আমরা নতুন বলে খুব ভালো বোলিং করেছি। তবে ডেথ ওভারে আমাদের আরও উন্নতি দরকার। যখন আমরা ভালো উইকেটে খেলার সুযোগ পাব, তখন বোলাররাও আরও ম্যাচ জেতানো বোলিং করতে পারবে। বিশেষ করে মোস্তাফিজ ডেথ ওভারে কেমন কার্যকর তা আমরা সবাই জানি।”

দলের গঠন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও বক্তব্য দেন লিটন। জানান, “আমরা কিছু কিছু জায়গায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি ভবিষ্যতের কথা ভেবেই। আজ যারা সুযোগ পেয়েছে, তারা সবাই ভালো পারফরমার। এভাবে চলতে থাকলে দল আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে কঠিন প্রতিযোগিতায় লড়াই করার জন্য প্রস্তুত থাকবে।”

এদিকে দলের কোচিং স্টাফ ইতোমধ্যেই ঢাকা ছেড়ে সংক্ষিপ্ত অবকাশে গেছেন। খেলোয়াড়রাও পেয়েছেন অল্প সময়ের বিশ্রাম। তবে এই বিরতির পরপরই আবার শুরু হবে নিজেদের ফিটনেস নিয়ে কাজ, পুনরায় ঝালিয়ে নেওয়া হবে কৌশলগত প্রস্তুতি। কারণ সামনে অপেক্ষা করছে এশিয়া কাপ, যেখানে বাংলাদেশ দল নিজেদের শক্তির সর্বোচ্চ প্রয়োগ করতে চায়।

লিটনের এই প্রত্যাশা—আরও একটি প্রস্তুতিমূলক সিরিজ খেলার সুযোগ—শুধু একটি কৌশলগত দাবি নয়, বরং তা দলের সামগ্রিক প্রস্তুতিকে আরও নির্ভরযোগ্য ও প্রতিযোগিতার উপযোগী করে তুলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এই আহ্বানে কী সাড়া দেয় এবং প্রস্তুতির এই গতি ধরে রেখে এশিয়া কাপে কতটা শক্ত অবস্থানে পৌঁছাতে পারে টাইগাররা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত