প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম বিস্ময়কর নাম এবি ডি ভিলিয়ার্স ফের প্রমাণ করলেন কেন তাঁকে ‘মিস্টার ৩৬০’ নামে ডাকা হয়। সময়কে উপেক্ষা করে, বয়সকে তুচ্ছ করে তিনি আবারও মেলে ধরলেন ব্যাটিং প্রতিভার অতুলনীয় প্রদর্শনী। ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডস (ডব্লিউসিএল)-এ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪১ বলে সেঞ্চুরির পর এবার তিনি তাণ্ডব চালালেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকাদের বিরুদ্ধে। হেডিংলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ডি ভিলিয়ার্স খেলেন মাত্র ৪৬ বলে ১২৩ রানের বিস্ফোরক ইনিংস, যাতে ছিল ১৫টি চার ও ৮টি বিশাল ছয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংয়েই ছিল রাজত্ব। টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামে প্রোটিয়ারা এবং শুরু থেকেই আগ্রাসী কৌশল অবলম্বন করে। ডি ভিলিয়ার্সের সঙ্গে ওপেন করতে নামা জেজে স্মিটও ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। পাওয়ারপ্লেতেই এই জুটি তুলে নেয় ৭৮ রান, যা প্রতিপক্ষের ওপর চাপে ফেলার জন্য যথেষ্ট ছিল। স্মিট শেষ পর্যন্ত করেন ৫৩ বলে ৮৫ রান, যাতে ছিল নান্দনিক স্ট্রোক এবং দুর্দান্ত টেম্পারামেন্টের প্রদর্শন।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বল হাতে ছিলেন ব্রেট লি, পিটার সিডল, ড্যান ক্রিস্টিয়ান, জশ হেস্টিংস ও ডার্সি শর্টের মতো প্রথিতযশা বোলাররা। কিন্তু কেউই থামাতে পারেননি ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাটিং প্রবাহ। শুরুতে ২২ বলে ফিফটি করার পর আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন তিনি। মাত্র ১৭ বলে পূর্ণ করেন শতক। এমন ধ্বংসাত্মক ব্যাটিংয়ে যেন হেডিংলি হয়ে ওঠে ডি ভিলিয়ার্সের ব্যক্তিগত খেলার মঞ্চ।
দক্ষিণ আফ্রিকা নির্ধারিত ২০ ওভারে সংগ্রহ করে বিশাল ২৪১ রান ৬ উইকেট হারিয়ে। ব্যাটিংয়ের এই রেকর্ডময় প্রদর্শনের জবাবে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিংয়ে ছিল বিবর্ণ। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি তারা। লক্ষ্য তাড়ায় নামা অজিরা শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে এবং এক পর্যায়ে ১৬.৪ ওভারে মাত্র ১৪৬ রানেই গুটিয়ে যায় দলটি। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে বোলিংয়ে নেতৃত্ব দেন রোরোফ ভ্যান ডার মারওয়ে ও স্মিট, যাদের সুসংগঠিত বোলিংয়ের সামনে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিং ভেঙে পড়ে।
এই ম্যাচ দিয়ে আবারও প্রমাণ হলো, ক্রিকেটে ‘লিজেন্ড’ শব্দটির অর্থ কেবল অতীত গৌরব নয়, বরং তা হতে পারে বর্তমানের অনুপ্রেরণাও। এবি ডি ভিলিয়ার্স তাঁর ব্যাট দিয়ে সে অনুপ্রেরণার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডসের এই আসর তাই হয়ে উঠছে শুধু নস্টালজিয়ার নয়, বরং নতুন উত্তেজনা, অনুপ্রেরণা ও শ্রদ্ধার এক অনন্য মিলনস্থল।
একটি বাংলাদেশ অনলাইন