প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের জনপ্রিয় পেসার তাসকিন আহমেদের বিরুদ্ধে গুরুতর এক অভিযোগ উঠেছে, যা কেবল তার ভক্তমহলকেই নয়, পুরো ক্রীড়াঙ্গনকেই বিস্ময়ের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। বন্ধুকে বাসায় ডেকে নিয়ে মারধরের মতো সংবেদনশীল অভিযোগ এনে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী হিসেবে অভিযোগ করেছেন সিফাতুর রহমান সৌরভ নামের এক যুবক, যিনি তাসকিনের দীর্ঘদিনের বন্ধু বলে জানা গেছে। অভিযোগে বলা হয়, তাসকিন আহমেদ নিজেই তাকে ফোন করে তার বাসায় যেতে বলেন। আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার দিকে সৌরভ তাসকিনের বাসায় পৌঁছালে সেখানে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শারীরিকভাবে গুরুতরভাবে জখম করা হয়।
এ ঘটনার পরও শান্ত হয়নি হামলাকারী— এমন অভিযোগও আছে সাধারণ ডায়েরিতে। সৌরভ দাবি করেন, ঘটনার পরপরই তাসকিন তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে ফোন করে আরও চাপ প্রয়োগ করেন যেন সে চুপ থাকে এবং বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ায় না নিয়ে যায়।
এই ঘটনায় গতকাল রাতেই রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করা হয়। মিরপুর থানার একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, অভিযোগটি তাদের কাছে এসেছে এবং বিষয়টি তারা আমলে নিয়েছেন। যদিও থানার দায়িত্বশীল কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তাদের ভাষ্য, “ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন।”
অন্যদিকে, সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাসকিন আহমেদ কিংবা তার বাবা আব্দুর রশিদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তারা কারো ফোন ধরেননি এবং কোনো বক্তব্য দেননি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ইতোমধ্যে তীব্র হয়ে উঠেছে। ভক্ত-সমর্থকরা একজন জাতীয় তারকার এমন ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
তাসকিন আহমেদ বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনে একটি উজ্জ্বল নাম। ২০১৫ সালে বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি ধারাবাহিকভাবে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার শৃঙ্খলাপরায়ণতা ও ধর্মীয় অনুশাসন পালনের পরিচিতিও রয়েছে। তাই এই অভিযোগকে ঘিরে তৈরি হয়েছে একধরনের ধাক্কা, যার অভিঘাত শুধু ব্যক্তি তাসকিনের নয়, গোটা ক্রীড়াঙ্গনের ভাবমূর্তির ওপরও পড়তে পারে।
এই অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে জাতীয় দলের একজন বর্তমান খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে আইনগত ও নৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্ন আসবে সামনে। আবার যদি অভিযোগটি ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়, তবে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়েও কৌতূহল রয়েছে সাধারণ মানুষের।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে— বিষয়টি কেবল এক বন্ধুর সঙ্গে ঝামেলা নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো গভীরতর কারণ? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তেই এর উত্তর মিলবে বলে আশা করা যায়।
একটি বাংলাদেশ অনলাইন