বাংলাদেশের স্মৃতি হৃদয়ে গেঁথে রেখেছেন হামজা চৌধুরী

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৭ বার
বাংলাদেশের স্মৃতি হৃদয়ে গেঁথে রেখেছেন হামজা চৌধুরী

প্রকাশ: ২৯শে জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ইংলিশ লিগের পরিচিত মুখ, লেস্টার সিটির মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী এখন ইংল্যান্ডে অবস্থান করলেও হৃদয়ের গভীরে গেঁথে রেখেছেন বাংলাদেশের স্মৃতি। জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতা, দেশের মানুষের অভাবনীয় ভালোবাসা এবং গ্রামবাংলার আপন আবহ—সব মিলিয়ে বাংলাদেশ তার জীবনের একটি অমূল্য অধ্যায় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি নিজ ক্লাব লেস্টার সিটির দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই অভিজ্ঞতার কথাই জানালেন এই ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ফুটবলার।

হামজার জন্য ১৭ মার্চ দিনটি শুধুই একটি তারিখ নয়, বরং একটি চিরস্মরণীয় অভিজ্ঞতার নাম। সেদিনই তিনি বাংলাদেশে পা রাখেন জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার জন্য। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে যে ভালোবাসা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছিলেন, তা তাকে একেবারে বিস্মিত করে। হাজারো মানুষের ভালোবাসায় ভেসে যেতে যেতে অনুভব করেছিলেন, তিনি কেবল একজন ফুটবলার নন—বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের একটি অংশে স্থান পাওয়া একজন আপনজন।

স্মৃতি রোমন্থন করে হামজা বলেন, “জাতীয় দলে যোগ দিতে বাংলাদেশে পৌঁছে নিজ গ্রামে যাই, যেখানে আমার শৈশবের অনেকটা সময় কেটেছে। সেখানে গিয়ে মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। এমন ভালোবাসা খুব কম ফুটবলারই পায়।”

লেস্টার সিটির হয়ে একসময় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলে তারকাখ্যাতি অর্জন করলেও, বাংলাদেশে এসে তার পরিচিতি এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। সাম্প্রতিক মৌসুমে তিনি শেফিল্ড ইউনাইটেডে ধারে খেলার পর আবারও ফিরেছেন নিজের পুরোনো ঠিকানায়—লেস্টারে। তবে এখন লক্ষ্য আরও বড়—চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ থেকে দ্য ফক্সেসকে আবারও প্রিমিয়ার লিগে তুলে আনা।

বাংলাদেশের হয়ে ইতিমধ্যেই তিনি মাঠে নেমেছেন তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে—প্রতিপক্ষ ছিল ভারত, ভুটান ও সিঙ্গাপুর। প্রতিটি ম্যাচেই নিজের জাত চিনিয়েছেন হামজা। আর সামনে অপেক্ষা করছে আরও গুরুত্বপূর্ণ লড়াই—অক্টোবরে ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ। দেশের মানুষের প্রত্যাশার ভার যেন অনুভব করেন তিনি, আর সেটার প্রতিদান দিতে চান পারফরম্যান্স দিয়ে।

সাক্ষাৎকারে হামজা বলেন, “যুক্তরাজ্যে আমি ভালোবাসা পাই, কিন্তু বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা একেবারে ভিন্ন। কেউ কেউ হয়তো এমন ভালোবাসাকে ভয় পায়, কিন্তু আমি সেটাকে দেখি রোমাঞ্চ হিসেবে। এটাই আমাকে নতুন করে নিজেকে চিনতে সাহায্য করেছে।”

বাংলাদেশের ফুটবল অনুরাগীরা যারা এতদিন মেসি-রোনালদো, পেলে-ম্যারাডোনার বিতর্কে বিভোর ছিলেন, এখন তাদের কাছে নতুন এক নায়ক—হামজা চৌধুরী। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই আন্তর্জাতিক তারকার জাতীয় দলে আগমন শুধু একটি ফুটবল সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে জাতীয় গর্ব, আবেগ এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনার প্রতীক।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) তার অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে যে সাহসী ও কৌশলী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল অঙ্গনে নতুন আলোড়ন তুলেছে। হামজার মতো আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে দেশের ফুটবলের মান যেমন উন্নত হবে, তেমনি দেশের ছেলেমেয়েরা নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ পাবে।

এখন অপেক্ষা, দেশের মাঠে আরও বেশি ম্যাচে তার ঝলক দেখার। কারণ, হামজা চৌধুরী শুধু একজন ফুটবলার নন—তিনি এখন বাংলাদেশের ফুটবলের এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের নাম।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত