প্রোপাগান্ডার পাল্টাপাল্টি: মেয়র না হয়ে ‘দখলকৃত টিভি’ দিয়ে প্রচার চালানোর অভিযোগ ইশরাকের বিরুদ্ধে

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০২৫
  • ৪২ বার

প্রকাশ: ২৯ জুলাই, ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদে শপথ গ্রহণ করতে না পারা বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে। যুব ও ক্রীড়া এবং স্থানীয় সরকার; পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি বিস্ফোরক পোস্টে অভিযোগ করেন, ইশরাক হোসেন এখন তার দখলে থাকা একটি টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে চলেছেন।

আসিফ মাহমুদের ভাষ্য মতে, বিএনপির ভেতরের একটি গোষ্ঠী এবং কায়কোবাদ পরিবারের নেতৃত্বে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এখনো তার বিরুদ্ধে চালু রয়েছে। পোস্টে তিনি সরাসরি উল্লেখ করেন, “কোর্টের মারপ্যাঁচে এবং সরকারি সিদ্ধান্তে মেয়াদ শেষ হবার পরও মেয়র হতে না পেরে ইশরাক ভাই কায়কোবাদ সাহেবের সঙ্গে জোট বেঁধেছেন। তার দখলে থাকা একটি টিভি চ্যানেল ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। সেখানে এমনকি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে জড়িত হত্যাকাণ্ডের এক আসামিকে ভিক্টিম হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দীর্ঘ পোস্টে আসিফ মাহমুদ সরাসরি অভিযোগ করেন, তাকে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলা হচ্ছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে। যেমন, থানায় হামলা সংক্রান্ত এক মামলায় তার নাম জড়ানো, মুরাদনগরের আলোচিত ট্রিপল মার্ডার কাণ্ডে কায়কোবাদ পরিবারের সম্পৃক্ততা থাকা সত্ত্বেও তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে টেনে আনা, এসব সবই রাজনৈতিকভাবে তাকে দুর্বল করার অপচেষ্টা বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আসিফ মাহমুদের দাবি, নিহতদের পরিবার শুরুতে কোথাও তার বা তার পরিবারের নাম উল্লেখ করেনি, এমনকি প্রাথমিক সাক্ষাৎকারগুলোর আর্কাইভেও তার নাম ছিল না। কায়কোবাদ পরিবারের প্রভাবেই পরবর্তীতে তাকে জড়িয়ে কিছু বক্তব্য তৈরি করা হয়। তিনি লেখেন, “গত তিন মাস ধরে আমি বা আমার পরিবারের কেউ এলাকায় যাইনি। অথচ এতোসব ঘটনায় আমাকে দায়ী করা হচ্ছে। কায়কোবাদ সাহেবের লোকেরা ভিক্টিমকে কনভিন্স করে আমার নাম বলাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “মিডিয়া দখলে থাকলে কী না করা যায়? থানা ভাঙচুর, খুনের আসামিদের ভিক্টিম বানানো, আর একজন নিরপরাধ মানুষকে ‘ভিলেন’ সাজানো, এসবই এখন বাস্তবতা।” তার বক্তব্যে পরিষ্কার হয়ে ওঠে যে, তিনি নিজেকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ষড়যন্ত্রের শিকার বলেই মনে করছেন এবং সেইসঙ্গে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অসহায়তার কথা তুলে ধরছেন।

এই দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি আরও জানান, তিনি মুরাদনগরে এমপি পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করলেও কোনো ‘ক্ষমতাকেন্দ্র’ বা ‘এস্টাবলিশমেন্টের’ সমর্থন বা অর্থনৈতিক ক্ষমতা না থাকায় সেটিও সম্ভব হচ্ছে না। বরং, মধ্যবিত্ত ঘরানার একজন ‘অসহায় মানুষ’ হিসেবে তিনি এখন রাজনৈতিক মাফিয়াদের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন বলেই মনে করেন।

আসিফ মাহমুদ তার পোস্টে উল্লেখ করেন, “আমি শুধু মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তাও আর সম্ভব বলে মনে হচ্ছে না। এখনো যদি কিছু করতে চাই, তবে সেটাও থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ যেন মাফিয়াদের জয়জয়কার আর সাধারণ মানুষের অবরুদ্ধ কণ্ঠ।”

তিনি দাবি করেন, এলাকার জনগণের মুক্তি এবং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি রোধে কাজ করাই তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু সেই চেষ্টাই আজ তাকে বিপদের মুখে ফেলে দিয়েছে।

এই পোস্ট ঘিরে ইতোমধ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম নিয়েছে। ইশরাক হোসেন কিংবা কায়কোবাদ পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকাশ্য অভিযোগ এবং পাল্টাপাল্টি অবস্থান সামনের দিনগুলোতে রাজনীতির মঞ্চে আরও উত্তাপ ছড়াতে পারে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত