প্রকাশ: ২৯ জুলাই, ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
নারী ফুটবলের এশিয়ান কাপে শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে কঠিন গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশ। সদ্য অনুষ্ঠিত ড্র অনুযায়ী বাংলাদেশের ভাগ্যে জুটেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীন, মধ্য এশিয়ার ফুটবল-শক্তি উজবেকিস্তান এবং রহস্যে ঘেরা দল উত্তর কোরিয়া। ১২ দলের এই প্রতিযোগিতায় ‘বি’ গ্রুপে জায়গা পাওয়ায় টুর্নামেন্টের সূচনাতেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে লাল-সবুজের মেয়েরা।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনি টাউন হলে আয়োজিত জমকালো ড্র অনুষ্ঠানে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) নারী এশিয়ান কাপ ২০২৬-এর গ্রুপ বিন্যাস চূড়ান্ত করে। ফিফার ২০২৫ সালের ১২ জুন প্রকাশিত র্যাঙ্কিং অনুযায়ী ১২টি দলকে চারটি পটে ভাগ করে ড্র পরিচালনা করা হয়। বাংলাদেশ ছিল চতুর্থ পটে, অর্থাৎ র্যাঙ্কিংয়ে সর্বনিম্ন অবস্থানে থাকা দলগুলোর অন্তর্ভুক্ত। ড্র শুরুও হয় এই পট থেকেই।
ড্রয়ের প্রাথমিক পর্যায়ে ভারতের জাতীয় নারী দলের ফুটবলার সঙ্গীতা চতুর্থ পট থেকে দলগুলোর নাম তোলেন। প্রথমে ওঠে ইরানের নাম, তারপর বাংলাদেশের। এভাবে বাংলাদেশ জায়গা করে নেয় ‘বি’ গ্রুপে। এরপর বিভিন্ন পট থেকে পর্যায়ক্রমে উজবেকিস্তান এবং চীন একই গ্রুপে যুক্ত হওয়ায় বি গ্রুপের চেহারাটা হয়ে যায় ভীষণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং। চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশ পড়েছে চীন, উজবেকিস্তান ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে।
সবচেয়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের একই গ্রুপে পড়া। কারণ চীন এশিয়ান কাপের বর্তমান শিরোপাধারী, দীর্ঘদিন ধরে মহাদেশীয় নারী ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করে আসা দল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও তারা এশিয়ার অন্যতম শীর্ষস্থানে। ফুটবলপ্রেমীরা স্বভাবতই ভিয়েতনামের মতো তুলনামূলকভাবে কম শক্তিশালী দলের সঙ্গে একত্র হওয়ার প্রত্যাশা করলেও ভাগ্য সেই সুযোগ দেয়নি। দ্বিতীয় পট থেকে ড্রয়ের সময় যিনি নাম তোলেন, তিনি দ্বিতীয় দল হিসেবে চীনের নাম তোলেন এবং সেই অনুযায়ী বাংলাদেশ চীনের সঙ্গী হয়।
এশিয়ান কাপে নারী ফুটবলের এই গ্রুপ পর্বকে ঘিরে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ক্রীড়ামহলে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে একই গ্রুপে পড়ার মানে হচ্ছে, বাংলাদেশের জন্য প্রতিটি ম্যাচ হবে কার্যত ফাইনালের মতো। কাগজে-কলমে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের নারী ফুটবল দল উন্নতির ধারায় রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন টুর্নামেন্টে শিরোপা জয় ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে বাংলাদেশের মেয়েরা নিজেদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে। কিন্তু এশিয়ান কাপে সফলতা পেতে হলে এই আত্মবিশ্বাসকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের সঙ্গে একই গ্রুপে পড়া একদিকে যেমন চাপের, অন্যদিকে সুযোগও হতে পারে নিজেকে প্রমাণের। এসব ম্যাচে ভালো খেলতে পারলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলের গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচিতি অনেক গুণ বাড়বে। তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য এটি হতে পারে শিক্ষার বিরাট ক্ষেত্র।
এশিয়ান কাপ নারী ফুটবলের চূড়ান্ত সূচি এবং ম্যাচভেন্যু আগামী মাসেই প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এরই মধ্যে জাতীয় নারী দলকে প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছে এবং প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের পরিকল্পনা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য এই টুর্নামেন্ট হবে বড় মঞ্চে নিজেদের মেলে ধরার একটি সুবর্ণ সুযোগ, যদিও প্রতিপক্ষের শক্তির বিচারে চ্যালেঞ্জটা ভয়ংকর বলেই মনে করছেন অনেকেই। তবে লড়াই এখানেই থেমে যায় না—প্রতিপক্ষ যতই শক্তিশালী হোক, মাঠে পারফরম্যান্স দিয়েই জয়-পরাজয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।
এবার দেখা যাক, বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল সেই সাহস, স্কিল ও দৃঢ়তা নিয়ে মাঠে নামতে পারে কিনা। প্রস্তুতির সময় কম, প্রতিপক্ষ দুর্ধর্ষ—তবে ইতিহাস বলে, ফুটবল মাঠে অসম্ভব বলে কিছু নেই।
একটি বাংলাদেশ অনলাইন