মুক্তিযুদ্ধকালীন মামলায় নাটকীয় মোড়: আ.লীগ নেতা মোবারক হোসেনের মৃত্যুদণ্ড বাতিল করল আপিল বিভাগ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩০ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৭ বার

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের এক বহুল আলোচিত মামলায় নতুন মোড় এনে দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মো. মোবারক হোসেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করে তাঁকে মুক্তি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ এক যুগ ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হলো।

বুধবার (৩০ জুলাই) সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এই বহুল প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, “রেকর্ডে পাওয়া তথ্য, প্রমাণ ও সাক্ষ্য পর্যবেক্ষণ করে আদালত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে আসামিকে নির্দোষ ঘোষণা করে খালাস দেওয়া হলো।”

মামলায় মোবারক হোসেনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। আদালতের এই রায় নিয়ে আইনজীবী ও রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

মোবারক হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ২০১২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়। ২০১৩ সালে অভিযোগ গঠনের পর বিচারকার্য শুরু হলে ২০১৫ সালে ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। ওই রায়ের বিরুদ্ধে মোবারক হোসেন উচ্চ আদালতে আপিল করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা রায়ের পর সাংবাদিকদের জানান, তাঁরা এখনো পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাননি। রায়ের কপি পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে মোবারক হোসেনের আইনজীবী ব্যারিস্টার সিদ্দিকী বলেন, “আমরা সব সময় বলে এসেছি যে, এই মামলায় তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে উপযুক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। আদালত আজ তা স্বীকার করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন।”

এদিকে রাজনৈতিক মহলে রায়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। একাধিক মানবাধিকার সংস্থা ও বিশ্লেষক এই রায়ের মধ্যে বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও জটিলতা উভয়ই দেখতে পাচ্ছেন। তাদের মতে, যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত মামলা গুলোতে যেমন বিচার হোক—তা অবশ্যই দলনিরপেক্ষ ও যথাযথ প্রমাণভিত্তিক হওয়া উচিত।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দণ্ডিতদের মধ্যে এই প্রথম নয়, এর আগেও কয়েকটি মামলায় আপিল বিভাগ সাজা কমিয়েছেন বা খালাস দিয়েছেন। তবে মোবারক হোসেনের মামলা ছিল ভিন্নরকম দৃষ্টান্ত। এই মামলার রায়কে ঘিরে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল ও বিতর্ক থাকায় সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও একবার পরীক্ষা দিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই রায়ের পর মোবারক হোসেনের মুক্তি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরিবার ও আইনজীবীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি দীর্ঘ আট বছর ধরে কারাভোগ করেছেন এবং তার স্বাস্থ্যের অবস্থাও ক্রমেই অবনতির দিকে ছিল।

শেষ পর্যন্ত, এই রায় শুধু একজন ব্যক্তির নয়, বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ বিচার প্রক্রিয়ার ওপরও দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলতে পারে। তবে তা হবে কতটা ইতিবাচক বা বিতর্কিত, তা সময়ই বলবে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত