হার-জয়ে দোদুল্যমান ক্যারিবীয়রা: পাকিস্তানের দারুণ সূচনায় চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪৮ বার

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

টানা ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি হয়ে পড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে টানা আট ম্যাচে হারের পর নতুন প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের বিপক্ষেও আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। ফ্লোরিডার লডারহিলে শুরু হওয়া তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথম ম্যাচেই ১৪ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ক্যারিবীয়দের। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে নেতৃত্ব দিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন পাকিস্তানি ওপেনার সাইম আইয়ুব, আর স্পিনে বিধ্বংসী ছিলেন মোহাম্মদ নাওয়াজ।

পাকিস্তান এদিন টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। শুরু থেকেই তারা সাবলীল খেলতে থাকে। ইনিংসের ভিত গড়েন ওপেনার সাইম আইয়ুব। ৩৮ বলে ৫৭ রানের ঝলমলে ইনিংসে তিনি তুলে নেন সাতটি চার ও দুটি ছক্কা। ফখর জামান ২৪ বলে ২৮ রান করেন, আর হাসান নাওয়াজের ব্যাট থেকে আসে ২৪ রান, যেটি আসে মাত্র ১৮ বলে। শেষ দিকে ফাহিম আশরাফ ৯ বলে ১৫ রান করে দলের সংগ্রহকে আরও এগিয়ে দেন। ২০ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৭৮ রান, ছয় উইকেট হারিয়ে। ক্যারিবীয়দের পক্ষে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন শামার জোসেফ, যিনি ৩০ রানে নেন তিনটি উইকেট।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসের প্রথম ১১ ওভার ছিল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭২ রান তোলা ক্যারিবীয়দের তখন মনে হচ্ছিল জয়ের পথে ভালোভাবেই এগোচ্ছে তারা। কিন্তু এরপরই হঠাৎ ঘূর্ণির ঘোর লাগান মোহাম্মদ নাওয়াজ। ১২তম ওভারে টানা তিন বলে ফেরান তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার—জুয়েল অ্যান্ড্রু, জনসন চার্লস এবং গুদাকেশ মোটিকে। এই ওভারটাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

চার্লস ও জুয়েল সমান ৩৫ রান করে বিদায় নেন, কিন্তু মোটি কোনো রান না করেই ফিরেন সাজঘরে। এক ধাক্কায় তিন উইকেট হারানোর পর আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শাই হোপ, শেরফানে রাদারফোর্ড, রোস্টন চেজ ও রোমারিও শেফার্ড ফিরে যান একে একে, এবং স্কোরবোর্ডে তখন ১১০ রানেই পড়ে যায় সপ্তম উইকেট। কার্যত এখানেই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে ক্যারিবীয় দল।

শেষদিকে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন জেসন হোল্ডার ও শামার জোসেফ। হোল্ডার ১২ বলে ৪টি ছক্কার সাহায্যে ৩০ রান করে অপরাজিত থাকেন, আর জোসেফ করেন ১২ বলে ২১ রান। তবে ততক্ষণে ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।

পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে নাওয়াজ ছিলেন সবচেয়ে সফল। তার স্পিন বোলিংয়ের সামনে জবাবহীন ছিল ক্যারিবীয় ব্যাটাররা। ৩ উইকেট নিয়ে তিনি খরচ করেন মাত্র ২৩ রান। সাইম আইয়ুব ব্যাট হাতে দারুণ অবদান রাখার পাশাপাশি বল হাতে নিয়েও নেন ২ উইকেট, ২০ রানের বিনিময়ে।

এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল পাকিস্তান। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। বিশেষ করে টানা নয় ম্যাচে হারের বৃত্তে পড়ে থাকা এই দলটির আত্মবিশ্বাস যে তলানিতে ঠেকেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

ক্যারিবীয়দের জন্য এই সিরিজ শুধুই ক্রীড়ামূলক প্রতিযোগিতা নয়, বরং আত্মমর্যাদা ফিরে পাওয়ার লড়াইও বটে। অন্যদিকে পাকিস্তান দল তাদের তরুণ প্রতিভা এবং কৌশলী পরিকল্পনায় গঠিত শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে নতুন করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বমঞ্চের জন্য নিজেদের প্রস্তুতি যাচাইয়ের সুযোগ পাচ্ছে।

অন্যদিকে বিশ্লেষকদের মতে, সাইম আইয়ুবের উদীয়মান নেতৃত্বগুণ ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ভবিষ্যতে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তার ব্যাটিং শৈলী ও কৌশলী ম্যাচপঠনশক্তি ইতোমধ্যে ক্রিকেটবিশ্বে নজর কাড়ছে।

আসন্ন ম্যাচগুলোতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না—সে উত্তরের জন্য অপেক্ষা ক্রিকেটভক্তদের। তবে প্রথম ম্যাচ শেষে চিত্রটা বেশ পরিষ্কার: আত্মবিশ্বাস, সংগঠিত পরিকল্পনা ও ফর্মের দিক থেকে পাকিস্তান বেশ এগিয়ে রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত