স্প্যাম কল থেকে মুক্তি: প্রযুক্তির ফাঁদে না পড়ে নিরাপদে থাকার উপায়

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫২ বার

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই অনেকেই যখন মোবাইল হাতে নেন, তখনই হঠাৎ একটি অচেনা নম্বর থেকে আসে একটি কল—“আপনি একটি লটারি জিতেছেন” বা “একটি পুরস্কার আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।” কখনো শুধু “হ্যালো” বলেই কলটি কেটে যায়। অনেকে উৎসাহী হয়ে ফেরত কল দেন বা কিছুটা আগ্রহ নিয়ে কথা বলেন, কেউবা আবার বিরক্ত হয়ে নম্বরটি ব্লক করেন। কিন্তু এই স্প্যাম কলগুলো সামান্য বিরক্তির বাইরে গিয়ে কখনো কখনো ভয়ংকর প্রতারণা কিংবা তথ্যচুরির কারণও হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা দেশে স্প্যাম কল একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যায় পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (ITU) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রতি ৩ জন মোবাইল ব্যবহারকারীর মধ্যে অন্তত ১ জন নিয়মিত স্প্যাম কলের শিকার হন। প্রযুক্তি যতই এগোচ্ছে, প্রতারণার পদ্ধতিও ততই জটিল হচ্ছে। ফলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আর্থিক নিরাপত্তা এখন হুমকির মুখে।

তবে আশার কথা হলো—এই সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রযুক্তিই আমাদের সবচেয়ে বড় সহায়। অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য ফোনেই রয়েছে এমন সব ফিচার, যা স্প্যাম কলকে ঠেকাতে পারে বেশ কার্যকরভাবে। যেমন অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের Google Phone অ্যাপে Caller ID & Spam Protection অপশন চালু করলে অজানা এবং সন্দেহজনক নম্বরগুলোর কল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লক হতে শুরু করে। অন্যদিকে, আইফোনে ‘Silence Unknown Callers’ ফিচারটি চালু করলে কনট্যাক্ট লিস্টে না থাকা নম্বরগুলো সরাসরি ভয়েসমেইলে চলে যায়, ফলে ফোন ব্যবহারকারীর বিরক্তির মাত্রা অনেকটাই কমে যায়।

বিশ্বব্যাপী প্রচুর ব্যবহারকারী Truecaller অ্যাপ ব্যবহার করে থাকেন, যা কেবল নম্বর শনাক্ত করেই ক্ষান্ত দেয় না, বরং ব্যবহারকারীদের রিপোর্টের ভিত্তিতে নম্বরগুলোকে ‘স্প্যাম’ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং ভবিষ্যতে সতর্ক করে দেয়। Hiya, Call Blocker, Mr. Number কিংবা Should I Answer-এর মতো অ্যাপগুলিও এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে এই অ্যাপগুলো ব্যবহারের আগে প্রাইভেসি পলিসি, অ্যাপ পারমিশন এবং ইউজার রিভিউ ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া বাঞ্ছনীয়, কারণ অনেক সময় এসব অ্যাপ নিজেরাই ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন কোম্পানির কাছে বিক্রি করতে পারে বলে অভিযোগ রয়েছে।

একইসাথে সচেতনতা এখানে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। আমরা অনেক সময় নিজের অজান্তেই নাম, ফোন নম্বর কিংবা ইমেইল দিয়ে ফেলি বিভিন্ন সাইটে সাইনআপ করার সময় বা অজানা অ্যাপে অনুমতি দিতে গিয়ে। এই তথ্যগুলোই পরে চলে যায় মার্কেটিং কোম্পানি বা স্ক্যামিং চক্রের ডেটাবেসে। ফলে অপ্রত্যাশিত কলের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এ কারণে কেবল বিশ্বাসযোগ্য এবং নিরাপদ প্ল্যাটফর্মে তথ্য দেওয়া উচিত, এবং বিশেষত ফোন নম্বর ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটররাও এ বিষয়ে এখন বেশ সচেতন। গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক কিংবা টেলিটক—সব অপারেটরই ধাপে ধাপে স্প্যাম কল নিয়ন্ত্রণে কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। বেশিরভাগ অপারেটরের অ্যাপে কিংবা ইউএসএসডি কোড ব্যবহার করে এখন গ্রাহকরা Do Not Disturb (DND) সেবা চালু করতে পারেন। এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রমোশনাল কল বা এসএমএস সহজেই ব্লক করা সম্ভব হচ্ছে। যেমন, গ্রামীণফোনে 1211101# ডায়াল করে এই সেবা চালু করা যায়; অন্যদিকে রবি বা বাংলালিংকের অ্যাপে গিয়ে প্রয়োজনীয় সেটিংস পরিবর্তন করলেই ফল পাওয়া যায়।

যদিও এসব পদ্ধতি শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে না, তবু এটি নিঃসন্দেহে একটি শক্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে।

প্রযুক্তি যেমন আমাদের জীবনে গতি এনেছে, তেমনি কিছু ছিদ্রও রেখে দিয়েছে। স্প্যাম কল কিংবা ফিশিং একটি ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল হুমকি হয়ে উঠেছে, যা থেকে মুক্তি পেতে দরকার সচেতনতা, টেকনিক্যাল জ্ঞান এবং কিছু প্রয়োজনীয় অভ্যাস। সেটিংস ঠিক রাখুন, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ থেকে বিরত থাকুন এবং নিজের তথ্য নিজের মত করেই রক্ষা করুন—কারণ এই যুগে তথ্যই সম্পদ এবং সেটাই এখন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা।

শেষ কথা হলো, সতর্ক থাকলে স্প্যাম কলের ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। তথ্যপ্রযুক্তির সুফল ভোগ করার পাশাপাশি এর ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকলেই নিরাপদে থাকবেন আপনি এবং আপনার ডিভাইস।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত