লাওসের বিপক্ষে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ, এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে নতুন চ্যালেঞ্জে নারী ফুটবল দল

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৬ আগস্ট, ২০২৫
  • ৩৮ বার

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশ নারী ফুটবলে চলছে সাফল্যের দারুণ সময়। কিছুদিন আগেই সিনিয়র দল প্রথমবারের মতো এএফসি নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। তার ঠিক পরপরই ঘরের মাঠে অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মেয়েরা। একের পর এক সাফল্যে উদ্দীপ্ত এই নারী ফুটবল দল এবার নতুন এক অভিযানে নামতে যাচ্ছে—এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে, যেখানে তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ শক্তিশালী লাওস। আজই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচটি।

তবে এই বাছাইপর্ব বাংলাদেশের জন্য মোটেও সহজ নয়। ‘এইচ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়া, আয়োজক লাওস ও তুলনামূলকভাবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল তিমুরলেস্তে। দক্ষিণ কোরিয়া একাধিকবার অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এবং এশিয়ান কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দল। ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বাছাইয়ে এই কোরিয়ার কাছেই ৭-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই দলের অনেক খেলোয়াড়ই এবার অনূর্ধ্ব-২০ দলে খেলছে, ফলে প্রতিপক্ষ হিসেবে কোরিয়া আগের মতোই ভয়ংকর।

লাওসও দুর্বল প্রতিপক্ষ নয়। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ থেকে অনেক উপরে থাকা এই দলটি খেলবে নিজেদের ঘরের মাঠে, যেখানে তারা অতীতেও চমক দেখিয়েছে। আসিয়ান অঞ্চলের শক্তিশালী নারী দলগুলোর মধ্যে লাওস অন্যতম। এই কারণে আজকের ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য শুধু বাছাই পর্বের সূচনা নয়, বরং মানসিক শক্তি, কৌশল এবং ধারাবাহিকতা যাচাইয়ের একটি বড় পরীক্ষা।

তবে আশার জায়গা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল যেভাবে উন্নতি করেছে, তাতে করে এই বাছাইপর্বে সেরা তিন রানার্সআপের তালিকায় স্থান পাওয়ার মতো যোগ্যতা তাদের রয়েছে। বাছাই পর্বে অংশ নেওয়া ৩৩টি দলের মধ্যে আটটি গ্রুপে ভাগ করে খেলা হবে। প্রত্যেক গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন এবং সেরা তিন রানার্সআপ দল পাবে চূড়ান্ত পর্বে খেলার সুযোগ। আয়োজক থাইল্যান্ড সরাসরি মূল পর্বে খেলবে।

বাংলাদেশের কোচ পিটার বাটলার বাছাইপর্বকে দেখছেন শুধু এই টুর্নামেন্টে জায়গা পাওয়ার লড়াই হিসেবে নয়, বরং আগামী বছরের সিনিয়র নারী এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি হিসেবেও। কেননা অনূর্ধ্ব-২০ দলের অনেক খেলোয়াড়ই ভবিষ্যতে সিনিয়র দলে খেলবেন। বাটলারের নেতৃত্বে মেয়েরা ইতোমধ্যেই জর্ডানে ত্রিদেশীয় সিরিজ এবং মিয়ানমারে বাছাই পর্বে অংশ নিয়ে অপরাজিত থেকেছে। এমনকি ঘরের মাঠে অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও প্রতিটি ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে তারা।

এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান কোচ বাটলার। ম্যাচের আগেরদিন সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “লাওস শক্তিশালী দল। ঘরের মাঠে খেলবে, চাপ তাদের চেয়ে আমাদের বেশি। তবে আমরা অতীতে পড়ে থাকতে চাই না, ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চাই। এই বাছাই আমাদের জন্য এশিয়ান কাপের প্রস্তুতির বড় মঞ্চ। মেয়েরা যেভাবে পরিশ্রম করছে, আমি আত্মবিশ্বাসী যে তারা ভালো অভিজ্ঞতা অর্জন করে সামনে এগিয়ে যাবে।”

এ সময় নারী দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার জানান, দল প্রস্তুত রয়েছে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার জন্য। তিনি বলেন, “আমরা এখানে এসেছি কোয়ালিফাই করতে। আমাদের লক্ষ্য একটাই—প্রতিটি ম্যাচে ভালো খেলা এবং দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগকে কাজে লাগানো।”

বর্তমান দলে সিনিয়র নারী দলের ৯ জন খেলোয়াড় রয়েছেন, যারা অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তরুণদের পথ দেখাতে পারে। কোরিয়ার বিপক্ষে লড়াইয়ের প্রস্তুতিও এই বাছাইয়ের মাধ্যমে হয়ে যাবে। কোচ বাটলার এরই মধ্যে এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, “এই টুর্নামেন্ট শুধু কোয়ালিফাই করার জন্য নয়, বরং দলকে ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তোলার মঞ্চ।”

বাংলাদেশ-লাওস ম্যাচ তাই কেবলই একটি ফুটবল খেলা নয়, বরং সাম্প্রতিক অর্জনের পর নতুন এক যাত্রার সূচনা। জয় কিংবা হার, যাই হোক না কেন—এই ম্যাচ নারী ফুটবলের উন্নতির পথে বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। আত্মবিশ্বাস, কৌশল আর দলগত সংহতির মিশেলে আজকের ম্যাচটিই হয়তো ঠিক করে দেবে—এশিয়া কাপের মূল পর্বে বাংলাদেশের মেয়েরা এবার স্বপ্ন ছুঁতে পারবে কি না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত