প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৫। নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পাগলা কানাই ইউনিয়নের ঝিনুকমালা আবাসন প্রকল্প এলাকায় পাওয়া গেছে ১১টি পরিত্যক্ত ককটেল বোমা। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে এবং এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মঙ্গলবার রাতের এ ঘটনায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানেই বিস্ফোরকগুলো উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবাসন প্রকল্পের পাশে অবস্থিত একটি কলাবাগানে মসজিদের নিকট একটি বাজারের ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় এলাকাবাসীর। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যৌথ বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাগটি পরীক্ষা করে তার ভেতর থেকে মোট ১১টি ককটেল উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত ককটেলগুলোর মধ্যে পাঁচটি লাল রঙের কসটেপে এবং ছয়টি কালো কসটেপে মোড়ানো ছিল।
ঝিনাইদহ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনোজ কুমার ঘোষ জানান, “উদ্ধার করা ককটেলগুলো বর্তমানে সদর থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এগুলো পরিত্যক্ত এবং অব্যবহৃত বলে মনে হলেও ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
ঘটনার বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ্ আল মামুন বলেন, “ঝিনুকমালা আবাসন প্রকল্পের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিস্ফোরক দ্রব্যের উপস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ককটেলগুলো প্রকল্প এলাকায় কীভাবে এলো বা কারা রেখে গেল, তা তদন্তের বিষয়। আমাদের তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।”
ককটেল উদ্ধারের ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঝিনুকমালা আবাসন প্রকল্পে বসবাসরত বহু দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ প্রতিনিয়ত এই ধরনের অনিরাপদ পরিবেশে বসবাস করছেন। এ ধরনের বিস্ফোরক সামগ্রী আবাসিক এলাকায় পাওয়া যাওয়া নিঃসন্দেহে একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে যেখানে নারী, শিশু এবং বৃদ্ধসহ নানা বয়সী মানুষের চলাচল রয়েছে, সেখানে ককটেল সদৃশ বোমা পাওয়া যাওয়াকে সংশ্লিষ্টরা এক ধরনের ‘সতর্ক সংকেত’ বলেই দেখছেন।
ঝিনুকমালা আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি এলাকায় কিছু অচেনা ও সন্দেহজনক লোকজনের গতিবিধি লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। তবে তারা কেউ স্থায়ীভাবে এখানে থাকেন না। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্প এলাকায় কারা আসে-যায়, সে বিষয়ে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি জরুরি।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ককটেল উদ্ধার হওয়ার পর থেকে পুরো এলাকা জুড়ে যৌথ বাহিনী টহল জোরদার করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক দল আশপাশের জায়গাগুলোতে তল্লাশি চালিয়ে আরও কোনো বিস্ফোরক বা অবৈধ দ্রব্য আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বিস্ফোরক বস্তু কোথাও লুকিয়ে রাখা হলে তা যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার জন্ম দিতে পারে। আবার এগুলো কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা রাজনৈতিক সহিংসতা ছড়ানোর প্রস্তুতির অংশ কি না— সে প্রশ্নও সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনো কোনো সংগঠন বা ব্যক্তি দায় স্বীকার করেনি।
ঘটনার পর জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা ব্যক্তিকে দেখতে পেলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা প্রশংসনীয় হলেও, এ ধরনের বিস্ফোরক দ্রব্য কীভাবে জনবসতিপূর্ণ এলাকার অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ল, সেই প্রশ্নটি এখন সবার মুখে মুখে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এমন ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদের জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।