১৭ দিনে ১০ জন গুলিবিদ্ধ, আতঙ্কে বেগমগঞ্জ

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫১ বার

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের গুলিতে দুই স্কুলছাত্র আহত হয়েছে। শনিবার রাতে উপজেলার জিরতলী ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুই ছাত্রকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। এ নিয়ে গত ১৭ দিনে উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার, পূর্বশত্রুতা ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে ১০ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

গুলিবিদ্ধ দুই ছাত্র হলো বারিচাতল গ্রামের প্রবাসী তৌহিদুল ইসলামের ছেলে সাকিব আল হাসান (১৬) ও একই গ্রামের কফিল উদ্দিন শিপনের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন নাদিম (১৭)। তারা দুজনই বাংলাবাজার সামছুন নাহার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আহত অবস্থায় তাদের নোয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাতের হামলার ঘটনায় রোববার বিকেল ৪টা পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা করা হয়নি। খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাকিব ও নাদিমের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে বাংলাবাজারে দুলাভাইয়ের কাপড়ের দোকান থেকে বের হয় সাকিব। পরে মামার মোটরসাইকেলে তিন বন্ধু নাদিম, সাকিব ও সাহিল বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়।

তারা বাংলাবাজার রাইস মিলের কাছে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে দুটি সিএনজি অটোরিকশায় করে ১০ থেকে ১২ জন লোক তাদের পথরোধ করার চেষ্টা করে। সাকিবের দাবি, অটোরিকশায় থাকা লোকজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সে নাদিমকে দ্রুত মোটরসাইকেল চালিয়ে চলে যেতে বলে।

নাদিম মোটরসাইকেলের গতি বাড়িয়ে দিলে দুর্বৃত্তরা অটোরিকশা থেকে তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে সাকিবের পিঠ, বাঁ পা ও হাতে এবং নাদিমের বাঁ হাতে গুলি লাগে। কিছুদূর যাওয়ার পর তারা মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যায়। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

নোয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ চৌধুরী জানান, রাতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই স্কুলছাত্রকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, মুখোশ পরা ১০ থেকে ১২ জন সন্ত্রাসী সিএনজিতে করে এসে দুই স্কুলছাত্রকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আহতদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। মুখোশ পরা থাকায় তারা হামলাকারীদের কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি। রোববার বিকেল পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

তবে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে গত কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিক গুলির ঘটনা। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত বেগমগঞ্জের বাংলাবাজার, আলাইয়ারপুর, গোপালপুর ও চৌমুহনী পৌর হকার্স মার্কেট এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, পূর্বশত্রুতা ও রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে একের পর এক গুলির ঘটনা ঘটেছে।

এসব ঘটনায় মোট ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রতিটি ঘটনার পর থানায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ নিয়ে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, হামলার পর মামলা হলেও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

নতুন করে দুই স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় বেগমগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে দিনের পর দিন প্রকাশ্যে অস্ত্রের ব্যবহার এবং ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত অস্ত্রধারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা না হলে এসব ঘটনা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে হামলার পেছনে কারা রয়েছে এবং আধিপত্য বিস্তার বা রাজনৈতিক বিরোধের সঙ্গে এসব ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে পুলিশ বলছে, হামলাকারীদের শনাক্ত করতে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। আহত দুই ছাত্রের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

টানা কয়েক সপ্তাহে একের পর এক গুলির ঘটনায় বেগমগঞ্জে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com