দেড় মাস পর আবারও ভাঙল খোয়াই নদীর বাঁধ

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ১২ বার

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর তীররক্ষা বাঁধে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। দেড় মাস আগে ভেঙে যাওয়া বাঁধটি পুরোপুরি সংস্কার না হওয়ায় রোববার বেলা ১১টার দিকে প্রবল স্রোতে এর একটি অংশ ভেঙে যায়। এতে নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। সদর ও বাহুবল উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

বাঁধ ভেঙে পানি প্রবল বেগে লোকালয়ে প্রবেশ করায় কয়েকটি গ্রামের রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে বাড়িঘর ছাড়তে শুরু করেছে।

বাঁধ ভাঙার কিছুক্ষণ আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ মো. জি কে গউছ। তিনি এলাকা পরিদর্শন করে ফিরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই বাঁধের একটি অংশ ভেঙে নদীর পানি আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

এর আগে গত ৯ জুলাই লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। এতে ওই এলাকার বাসিন্দারা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ের বিশেষ বরাদ্দে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করে। কিন্তু প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও সংস্কারকাজ শেষ হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তারা বাঁধ সংস্কারে ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন।

পাউবো সূত্র জানায়, রোববার উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। প্রবল স্রোতে পানির চাপ বেড়ে গেলে কালীগঞ্জ এলাকায় বাঁধের দুর্বল অংশ ভেঙে যায়। এরপর দ্রুতগতিতে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে থাকে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে হবিগঞ্জ সদর ও বাহুবল উপজেলার ৫০টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে। ইতিমধ্যে ২০ থেকে ২৫টি গ্রামের রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অনেকে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি ও অন্যান্য নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

সুঘর গ্রামের বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, সময়মতো বাঁধ মেরামত না হওয়ায় দেড় মাসের ব্যবধানে আবারও ভাঙনের শিকার হতে হয়েছে। বাঁধ ভেঙে বাড়ির চারপাশের হাওরের পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকেরা নতুন করে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

চরহামুয়া গ্রামের আব্দুল হক বলেন, মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে বাঁধটি আবারও ভেঙে গেছে। আগের বন্যায় কৃষকদের যে ক্ষতি হয়েছিল, তা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি তারা। এর মধ্যে ফের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বনগাঁও গ্রামের শফিক মিয়া বাঁধ সংস্কারে কর্তৃপক্ষের অবহেলার অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষ্য, দ্রুত সংস্কার করা হলে এত অল্প সময়ের মধ্যে বাঁধটি আবার ভাঙত না। পানি ঢুকে পড়ায় এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই ঘরের আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছেন।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, আসাম ও ত্রিপুরায় ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণে উজান থেকে বিপুল পরিমাণ পানি নেমে এসেছে। অল্প সময়ের মধ্যে খোয়াই নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় প্রবল স্রোতের চাপে বাঁধটি ভেঙে গেছে।

বাঁধ সংস্কারে ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, তাঁদের জানা মতে এখন পর্যন্ত কোনো অনিয়ম হয়নি। দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। তবে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে সংস্কারকাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে।

তিনি জানান, পানি কমে গেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দেড় মাসের ব্যবধানে একই স্থানে ফের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চলতি মৌসুমে ফসল ও বসতবাড়ি রক্ষায় দ্রুত বাঁধ সংস্কার এবং কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত