প্রধান অতিথি না করায় ভুয়া ১৪৪ ধারায় খেলা বন্ধ

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০ বার

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নাটোরের লালপুরে গ্রামের ৬০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। পছন্দের রাজনৈতিক নেতাকে প্রধান অতিথি এবং নিজেকে বিশেষ অতিথি না করায় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ‘১৪৪ ধারা জারি’র ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে মাইকিং করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন আয়োজক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কেশবপুর গ্রামে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করা এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে উপজেলা ছাত্রদলের ৩ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ আলীর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা ছাত্রদল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর গ্রামে প্রায় ছয় দশক ধরে গ্রামবাসীর উদ্যোগে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী, গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিরাই টুর্নামেন্টের বিজয়ী ও বিজিত দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ব্যক্তিকে বিশেষভাবে অতিথি করার প্রচলন নেই।

চলতি বছরও একই ঐতিহ্য অনুসরণ করে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়। প্রায় ১৫ দিন আগে শুরু হওয়া প্রতিযোগিতায় স্থানীয় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাধিক দল অংশ নেয়। গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর ফাইনাল ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

আয়োজক কমিটির সদস্য মাহবুবের অভিযোগ, খেলা শুরুর পর থেকেই ছাত্রদল নেতা মারুফ আলী আয়োজকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোলামকে ফাইনাল ম্যাচের প্রধান অতিথি এবং তাঁকে বিশেষ অতিথি করা হোক।

তবে আয়োজকরা গ্রামের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বজায় রাখার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন এবং ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মারুফ আলী শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে নিজ উদ্যোগে মাইক ভাড়া করে পুরো গ্রামে প্রচার চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মাইকিংয়ে বলা হয়, বিবাদের আশঙ্কায় প্রশাসন খেলার মাঠে ১৪৪ ধারা জারি করেছে এবং সেখানে খেলাধুলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় আয়োজকরা ফাইনাল ম্যাচ স্থগিত করতে বাধ্য হন।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। স্থানীয় গ্রামপ্রধান আবুল কালাম আজাদ বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া কোনো এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করার এখতিয়ার কারও নেই। একজন ছাত্রদল নেতার এমন মিথ্যা প্রচারণায় গ্রামের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মারুফ আলী ১৪৪ ধারা জারির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম জানিয়েছেন, খেলা বন্ধের ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি আগে কিছুই জানতেন না। তাঁর ভাষায়, ঐতিহ্যবাহী একটি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। বিষয়টি নিয়ে মারুফকে ডেকে কারণ জানতে চাওয়া হচ্ছে।

লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান বলেন, ঘটনাটি মারুফ আলীর ব্যক্তিগত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। এর দায় সংগঠন নেবে না। ইতোমধ্যে জেলা ছাত্রদল তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে।

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইসলাম সৃজন বলেন, দায়িত্বশীল পদে থেকে বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগে মারুফ আলীকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। তাঁর জবাব সন্তোষজনক না হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ভুক্তভোগী বা আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে মূল প্রশ্ন উঠেছে, রাজনৈতিক পরিচয় বা সাংগঠনিক পদ ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি প্রশাসনের নামে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে একটি জনসমাগম বা ক্রীড়া আয়োজন বন্ধ করে দিতে পারেন কি না। অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে এটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ বন্ধের ঘটনা নয়, বরং প্রশাসনিক ক্ষমতার নামে বিভ্রান্তি তৈরির গুরুতর বিষয় হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত