স্পিনে বিধ্বস্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ম্যাচে এগিয়ে পাকিস্তান

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৬ বার

প্রকাশ: ৫ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পোর্ট অব স্পেনের ঐতিহাসিক কুইন্স পার্ক ওভালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার টেস্ট সিরিজের লড়াই তৃতীয় দিনের শেষেই নাটকীয় মোড় নিয়েছে। দিনের প্রথম দুই সেশনে ক্যারিবীয় স্পিনারদের দাপটে পাকিস্তানের ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ায় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিছুটা এগিয়ে থাকবে বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু শেষ সেশনে পাকিস্তানের স্পিনারদের দুর্দান্ত প্রত্যাঘাতে পুরো চিত্রই বদলে যায়। মাত্র ৪০.৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে স্বাগতিকরা। তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১০৩ রান। তাদের লিড মাত্র ৬০ রান, যা ম্যাচের বর্তমান পরিস্থিতিতে মোটেও নিরাপদ নয়।

দিনের শুরুতে পাকিস্তান আগের দিনের ২ উইকেটে ২৬৬ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে। ক্রিজে ছিলেন আবদুল্লাহ শফিক ও বাবর আজম। দুজনের দৃঢ় জুটিতে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখছিল সফরকারীরা। তবে তৃতীয় দিনের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে। বিশেষ করে ক্যারিবীয় স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান পাকিস্তানের মিডল ও লোয়ার অর্ডারে একাই ধস নামিয়ে দেন।

পাকিস্তানের ইনিংসের সবচেয়ে বড় অবদান আসে ওপেনার আবদুল্লাহ শফিকের ব্যাট থেকে। অসাধারণ ধৈর্য ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে তিনি ৩২৩ বল মোকাবিলা করে অপরাজিত ১৬০ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল একাধিক দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিণত ব্যাটিং। অন্যদিকে বাবর আজমও দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। তিনি ৮৮ রান করে বড় শতকের পথে এগোচ্ছিলেন। তবে একটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে রানআউট হয়ে ফিরে গেলে পাকিস্তানের ইনিংসে ভাঙন শুরু হয়। বাবর ও শফিকের তৃতীয় উইকেট জুটিতে আসে ১৮৩ রান, যা ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেয়।

বাবরের বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। সপ্তম উইকেটে সাজিদ খানের সঙ্গে আবদুল্লাহ শফিকের ৫৯ রানের জুটি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও শেষদিকে জোমেল ওয়ারিকানের ঘূর্ণিতে টিকতে পারেনি পাকিস্তানের লেজের সারির ব্যাটাররা। মাত্র চার বলের ব্যবধানে শেষ তিন উইকেট তুলে নিয়ে ইনিংসে ৬ উইকেট শিকার করেন এই বাঁহাতি স্পিনার। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তাঁর তৃতীয় পাঁচ উইকেট বা তার বেশি শিকারের কীর্তি। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস থামে ৩৮৭ রানে।

প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৪৪ রান করায় পাকিস্তান পায় ৪৩ রানের লিড। সেই ব্যবধান খুব বড় না হলেও শেষ সেশনে পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে আসে।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাকিস্তানের অফ স্পিনার সাজিদ খান ও বাঁহাতি স্পিনার আলী উসমান ধারাবাহিকভাবে লাইন-লেন্থ ধরে রেখে ক্যারিবীয় ব্যাটারদের ভুল করতে বাধ্য করেন। টার্ন ও বাউন্সের সুবিধা কাজে লাগিয়ে দুই স্পিনার মিলে তুলে নেন ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। সাজিদ খান নেন চারটি উইকেট, আর আলী উসমানের ঝুলিতে যায় দুটি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন কাভেম হজ। অধিনায়ক রোস্টন চেজ করেন ১৭ রান, ত্যাগনারায়ণ চন্দরপলও ১৭ রান যোগ করেন। শাই হোপের ব্যাট থেকে আসে ১৫ রান। তবে কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং স্পিনের বিপক্ষে ব্যাটারদের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে পুরো ইনিংসে।

দিনের খেলা শেষে অপরাজিত ছিলেন জাস্টিন গ্রিভস। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়, স্বীকৃত ব্যাটারদের মধ্যে ক্রিজে আসার বাকি রয়েছেন মূলত ব্র্যান্ডন কিং। কিন্তু তাঁর খেলা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।

তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে বাবর আজমকে রানআউট করার সময় ব্র্যান্ডন কিং চোট পান এবং পরে মাঠ ছেড়ে চলে যান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং কোচ রবি রামপাল দিনের খেলা শেষে সাংবাদিকদের বলেন, কিংয়ের চোটের অবস্থা এখনো পুরোপুরি মূল্যায়ন করা হয়নি। মেডিকেল টিম তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। ফলে চতুর্থ দিনে তিনি ব্যাট করতে পারবেন কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

যদি কিং মাঠে নামতে না পারেন, তাহলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। ইতোমধ্যে ছয় উইকেট হারিয়ে মাত্র ৬০ রানের লিডে থাকা স্বাগতিকদের জন্য বড় সংগ্রহ গড়া কঠিন হয়ে যাবে। অন্যদিকে পাকিস্তান দ্রুত অবশিষ্ট উইকেট তুলে নিয়ে সহজ লক্ষ্য পেলে ম্যাচ নিজেদের করে নেওয়ার সুযোগ পাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচে স্পিনারদের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কুইন্স পার্ক ওভালের উইকেট প্রথম দুই দিনে ব্যাটিংয়ের জন্য মোটামুটি সহায়ক থাকলেও তৃতীয় দিনে স্পিনাররা উল্লেখযোগ্য টার্ন ও অতিরিক্ত বাউন্স পেয়েছেন। ফলে দুই দলের ব্যাটারদের জন্য রান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জোমেল ওয়ারিকান যেমন পাকিস্তানের ইনিংসে ছয় উইকেট নিয়ে দলকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন, ঠিক তেমনি পাকিস্তানের সাজিদ খান ও আলী উসমান শেষ সেশনে সেই সুবিধা কাজে লাগিয়ে ম্যাচের গতি নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে দেন।

চতুর্থ দিনের শুরুতে পাকিস্তানের লক্ষ্য থাকবে দ্রুত ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অলআউট করে অল্প রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নামা। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চাইবে শেষদিকের ব্যাটারদের নিয়ে যতটা সম্ভব লিড বাড়াতে। ম্যাচ এখন এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে প্রথম এক ঘণ্টার খেলাই নির্ধারণ করে দিতে পারে শেষ পর্যন্ত কোন দল এগিয়ে থাকবে।

ক্রিকেটপ্রেমীদের দৃষ্টি এখন চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনের দিকে। কারণ সামান্য কয়েকটি উইকেট কিংবা একটি ছোট জুটি পুরো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। তবে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে স্পষ্টভাবে বলা যায়, স্পিন আক্রমণের দাপটে এই মুহূর্তে মানসিক ও কৌশলগত—দুই দিক থেকেই এগিয়ে রয়েছে পাকিস্তান।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত