প্রকাশ: ৫ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বগুড়ায় ইসলামী ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ ওঠার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বগুড়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরানকে দল থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে।
এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়, নৈতিক স্খলন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে শওকত ইমরানের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, কোনো নেতার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে প্রাথমিকভাবে সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তাঁর ব্যাখ্যা এবং পরবর্তী তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এনসিপির বগুড়া জেলা শাখার আহ্বায়ক এম এস এ মাহমুদ জানান, শওকত ইমরানের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মামলা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি আপত্তিকর ভিডিও নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয় বিবেচনা করেই তাঁকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগের সূত্রপাত হয় বগুড়া সদর থানায় দায়ের করা একটি মামলাকে কেন্দ্র করে। গত রোববার রাতে ইসলামী ব্যাংকের নওগাঁ শাখার জুনিয়র ট্রেইনি অফিসার আশরাফুল ইসলাম শওকত ইমরানসহ চারজনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে আশরাফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গত শনিবার দুপুরে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজসংলগ্ন ইসলামী ব্যাংকের একটি এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে অটোরিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে বগুড়ার তিনমাথা রেলগেট এলাকায় কয়েকজন তাঁর পথ আটকান।
এ সময় শওকত ইমরানসহ কয়েকজন তাঁকে জোর করে একটি ছাত্রাবাসে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে তাঁকে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা, মুঠোফোন ও এটিএম কার্ড নেওয়া হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর কাছ থেকে ৮২ হাজার টাকা, দুটি মুঠোফোন এবং এটিএম কার্ড নেওয়া হয়েছিল।
তবে শওকত ইমরান তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনাটি অপহরণ বা মুক্তিপণ আদায়ের নয়। তিনি অভিযোগ করেন, আশরাফুল ইসলাম বিভিন্ন নারীর নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে অনলাইনে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
শওকত ইমরানের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর পরিচিত এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর আশরাফুলকে ডেকে তাঁর দুটি মুঠোফোন পরীক্ষা করা হয়। পরে প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া ওই টাকা তিনি ফেরত দেন। তবে এই বক্তব্যের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগের বিষয়টি এখন পুলিশের তদন্তাধীন। মামলার অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ওঠার পর দলগুলোর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে নতুন রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ক্ষেত্রে নেতাকর্মীদের আচরণ এবং অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো সংগঠনের নেতার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ উঠলে তা শুধু ব্যক্তির বিষয় হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং পুরো সংগঠনের ভাবমূর্তির ওপর প্রভাব ফেলে। এ কারণে অনেক রাজনৈতিক দল অভিযোগের প্রাথমিক পর্যায়েই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে তদন্তের সুযোগ তৈরি করে।
এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংগঠনের শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার সঙ্গে আপস করা হবে না। অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, শওকত ইমরান তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন এবং ঘটনার প্রকৃত সত্য তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন।
বর্তমানে বগুড়ার এ ঘটনায় পুলিশি তদন্ত, দলীয় অনুসন্ধান এবং অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।