প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সম্প্রতি সংঘটিত বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদ এবং এর সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আয়োজিত এক প্রতিবাদী সমাবেশে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগকে ইসরায়েলের নগ্ন আগ্রাসনের সঙ্গে তুলনা করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ক্যাম্পাসগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের বিতর্কিত ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাঙ্গনগুলোতে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছাত্রসমাজ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।
সমাবেশের মূল বক্তব্যে ছাত্রনেতারা বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের ভিপি এবং জিএসসহ নির্বাচিত দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের ওপর ছাত্রদলের কতিপয় নেতাকর্মী অতর্কিত ও কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়ে শিক্ষার পরিবেশকে আবারও রক্তস্নাত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। এখানেই শেষ নয়, আহত শিক্ষার্থীরা যখন জীবন বাঁচাতে এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের দিকে রওনা হন, তখন সেই চিকিৎসালয়ের ভেতরে ঢুকেও হামলা চালানো হয়। বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে চিকিৎসা কেন্দ্রে বা হাসপাতালে ঢুকে হামলার মতো এমন জঘন্য ও কাপুরুষোচিত কাজ কেবল হাতে গোনা কয়েকটি দল বা শক্তিই করেছে বলে মন্তব্য করা হয়। এই তালিকায় বিশ্বব্যাপী কুখ্যাত ইসরায়েলি বাহিনী, বিগত আমলের ছাত্রলীগ এবং বর্তমানে ছাত্রদল একই গোত্রভুক্ত বলে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন বক্তারা। হাসপাতালের মতো পবিত্র স্থানে ঢুকে রোগী ও আহত শিক্ষার্থীদের ওপর এমন হামলা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামান্তর বলে উল্লেখ করা হয়।
বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে সমাবেশে বলা হয় যে গত ছয় মাসের কার্যক্রমে সরকার চরমভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এবং এর ফলে দেশের সর্বস্তরে এক ধরনের জনবিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে। এই ব্যর্থতা ঢাকতে এবং ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করা হয়। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে ছাত্রসমাজ পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও দখলদারিত্বের রাজনীতিকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। যারা ক্যাম্পাসে পুনরায় ছাত্র সংসদ অকার্যকর করে ভীতি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়, তাদের সেই স্বপ্ন এ দেশের সচেতন শিক্ষার্থীরা কখনোই বাস্তবায়ন হতে দেবে না বলে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়ে দেওয়া হয়। বিশেষ করে বিগত দিনে ক্যাম্পাসগুলোতে যোগ্যতার মূল্যায়ন না করে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ত্রাস সৃষ্টি করা হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি ঘটানোর যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
ছাত্রদলের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সমাবেশে বলা হয় যে তারা যদি এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং হামলা অব্যাহত রাখে, তবে অতীতে ফ্যাসিবাদী শক্তির যে করুণ পরিণতি এ দেশের ছাত্রসমাজ ও জনগণ ঘটিয়েছিল, তাদের ভাগ্যে তার চেয়েও ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করবে। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা না নিয়ে যদি আবারও ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজত্ব বা গণরুম ও গেস্টরুমের অন্ধকার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তা প্রতিহত করতে রাজপথ ছাড়বে না। জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া আবু সাঈদ ও শহীদ আলী রায়হানের মতো বীরদের রক্ত এখনো শুকায়নি। তাদের আদর্শের উত্তরসূরিরা বেঁচে থাকতে কোনো অবস্থাতেই শিক্ষাঙ্গনগুলোতে সন্ত্রাসীদের পুনরুত্থান হতে দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
সরকারের নীতিনির্ধারক ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দের ব্যর্থতার কঠোর সমালোচনা করে বলা হয় যে বর্তমান প্রশাসনের খামখেয়ালিপনা এবং অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে দেশের সাধারণ মানুষ আজ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাওয়াসহ গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির চরম সংকটে জনজীবন আজ বিপর্যস্ত। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে অব্যবস্থাপনার কারণে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই সার্বিক ব্যর্থতার সম্পূর্ণ দায়ভার নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও নীতিনির্ধারকদের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত বলে দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে জাতির কাছে ভুল স্বীকার করে জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়, অন্যথায় সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে নিরবচ্ছিন্ন রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশ ঘটানোর পরিবেশ তৈরি করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। ইসলামী ছাত্রশিবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের যেকোনো ন্যায্য দাবি আদায়ে অতীতেও পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় সরব থাকবে বলে সমাবেশে ঘোষণা দেওয়া হয়। পরিশেষে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ছাত্রসমাজের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।