নন্দন বিলে জমজমাট নৌকাবাইচ, অংশ নিল ২০ নৌকা

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৫ বার

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচের আয়োজন ঘিরে উৎসবের আমেজ তৈরি হয় টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার নন্দন বিলে। আবহমান বাংলার লোকসংস্কৃতিকে ধরে রাখা এবং তরুণ-যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে গত শনিবার বিকেলে এ নৌকাবাইচের আয়োজন করে ফুলকী দক্ষিণপাড়া যুবসমাজ।

প্রতিযোগিতায় পাঁচটি গ্রুপে মোট ২০টি কোষা নৌকা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা দেখতে সকাল থেকেই নন্দন বিলের দুই পাড়ে ভিড় করতে শুরু করেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে বিলের দুই পাড় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। পুরুষের পাশাপাশি নারী ও শিশুদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।

স্থানীয় দর্শনার্থীরা বলেন, নৌকাবাইচ গ্রাম-বাংলার লোকসংস্কৃতির অন্যতম ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। একসময় বর্ষা মৌসুমে দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও বিলে নিয়মিত নৌকাবাইচ হতো। মাঝিমাল্লাদের বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর সারি গানের তালে ছুটে চলা কোষা নৌকার দৃশ্য উপভোগ করতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসতেন।

তবে সময়ের পরিবর্তন, নগরায়ণ ও গ্রামীণ জীবনধারার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নৌকাবাইচের সেই ঐতিহ্যও অনেকটা হারিয়ে যেতে বসেছে। কমে গেছে কোষা নৌকা তৈরির আগ্রহও। এমন পরিস্থিতিতে বাসাইলের নন্দন বিলে এই আয়োজন স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে।

আয়োজকরা জানান, ফুলকী ইউনিয়ন ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ২০টি কোষা নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রতিটি নৌকার দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাত। ছোট আকারের এসব নৌকা নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন স্থানীয় মাঝিরা।

নৌকাবাইচ উপলক্ষে বিলের দুই পাড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। নৌকার দৌড় শুরু হলে দর্শনার্থীরা করতালি ও উচ্ছ্বাসের মাধ্যমে প্রতিযোগীদের উৎসাহ দেন। দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজন দেখতে পেরে স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অনুষ্ঠানে কোনো রাজনৈতিক নেতা বা ব্যক্তিকে অতিথি করা হয়নি। মূলত গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখা, স্থানীয় মানুষের বিনোদনের ব্যবস্থা করা এবং তরুণ-যুবসমাজকে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার লক্ষ্যেই যুবসমাজের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়েছে।

আয়োজকরা আরও জানান, প্রতিযোগিতায় বিজয়ী নৌকার জন্য পুরস্কার হিসেবে একটি ২৪ ইঞ্চি স্মার্ট টেলিভিশন রাখা হয়। ছোট পরিসরে আয়োজন হলেও দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি এবং অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহে নৌকাবাইচটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির এই ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সম্ভব হবে। পাশাপাশি তরুণদের সুস্থ বিনোদনের সুযোগ তৈরি হবে এবং সামাজিকভাবে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়বে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com