প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের সাম্প্রতিক সময়ের উদীয়মান রাজনৈতিক শক্তি জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও সরকার গঠনের রূপরেখা নিয়ে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ্যে এনেছে। ভবিষ্যতে দলটি ক্ষমতায় এসে সরকার গঠন করতে পারলে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্ব কার হাতে কীভাবে বণ্টন হতে পারে, সে বিষয়ে বিশদ রাজনৈতিক বার্তা প্রদান করেছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একটি জাতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া বিশেষ ও খোলামেলা সাক্ষাৎকারে তিনি কেবল নিজের পছন্দের দুটি কৌশলগত প্রধান মন্ত্রণালয় নয়, বরং দলের অন্যান্য প্রভাবশালী তরুণ নেতৃত্বের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও সুনির্দিষ্ট মতামত তুলে ধরেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন নেতৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার যে প্রতিশ্রুতি এনসিপি দিচ্ছে, পাটওয়ারীর এই বক্তব্য সেই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকেই ইঙ্গিত করে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
ভবিষ্যতে এনসিপির সম্ভাব্য মন্ত্রী পরিষদের দায়িত্ব বণ্টন ও পরিচালনা পদ্ধতির স্বরূপ তুলে ধরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন যে, দলের ভেতরে কোনো একক ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত বা একচ্ছত্র কর্তৃত্ব চর্চার সুযোগ নেই। দলের সকল নীতি ও প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টনে যৌথ অংশীদারত্ব ও সহযোদ্ধার মানসিকতা বজায় রাখা হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকার গঠন করার মতো রাজনৈতিক সাফল্য অর্জিত হলে দলে আলোচনা ও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতেই সব সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। এই যৌথ নেতৃত্বের কাঠামোর মধ্যে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের অংশ হিসেবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্বরাষ্ট্র এবং বাণিজ্য—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে সবচেয়ে দক্ষতার সাথে সেবা দিতে পারবেন বলে আত্মবিশ্বাসী।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো রাষ্ট্রের অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহের পেছনের যুক্তিসঙ্গত রাজনৈতিক কারণ ব্যাখ্যা করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিচালনার মূল চ্যালেঞ্জ হলো দেশের সকল ভিন্নমাত্রার পলিটিক্যাল কমিউনিটি বা রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও ভারসাম্য রক্ষা করা। দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ের রাজনীতি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সাথে কাজ করার সুবাদে সেই বহুমুখী রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। অন্যদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পছন্দের পেছনে নিজের শিক্ষাগত ও পেশাগত পটভূমিকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন পাটওয়ারী। ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষার্থী হিসেবে এবং পূর্বে চাকরি করার অভিজ্ঞতার কারণে প্রতিদিনের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতির নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন তিনি। বাণিজ্য খাতের বাস্তবজ্ঞান থাকার দরুন তিনি এই দপ্তরটি দক্ষতার সাথে পরিচালনা করতে পারবেন বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকারে কেবল নিজের পছন্দের দপ্তরই নয়, বরং এনসিপির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তরুণ নেতাদের যোগ্যতা ও সম্ভাবনার নিরিখে সম্ভাব্য মন্ত্রণালয়গুলোর ভাগ বাটোয়ারা কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়েও নিজের স্পষ্ট অভিমত ব্যক্ত করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এনসিপি মুখ্য সমন্বয়কের মূল্যায়ন অনুযায়ী, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরাতে হাসনাত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পালন করতে পারবেন। একই সাথে দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার ইতিবাচক সংস্কারে আখতার হোসেনের আইনি জ্ঞান বিবেচনা করে তাকে আইন মন্ত্রণালয়ের এবং তৃণমূলের উন্নয়ন ও সমন্বয় রক্ষায় আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সম্ভাব্য সফল দায়িত্বশীল হিসেবে মনে করছেন তিনি। এছাড়া দেশের যোগাযোগ ও পরিবহন খাতে দৃশ্যমান শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দলের অন্যান্য অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করিয়ে দেন।
সাক্ষাৎকারের শুরুতেই এনসিপির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, দলীয় সংস্কৃতি ও নেতৃত্বের ধরন সম্পর্কে বিশদ ধারণা স্পষ্ট করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি ঐতিহ্যবাহী ও প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলোর একচ্ছত্র কর্তৃত্বवादी ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক ধারার চরম সমালোচনা করে তুলে ধরেন এনসিপির স্বকীয়তা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, এনসিপির ভেতর কোনো একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা নেতা সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেন না বা একক ইচ্ছায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন না। বরং তাঁদের দলীয় কাঠামোর মূল ভিত্তি হলো গভীর ‘কমরেডশিপ’ এবং পারস্পরিক সম্মতির ওপর প্রতিষ্ঠিত মেলবন্ধন। ফলে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হলে, দলীয় উচ্চপর্যায়ে খোলামেলা আলোচনার ভিত্তিতে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েই মন্ত্রী পরিষদের প্রতিটি পোর্টফোলিও বা দায়িত্ব বণ্টন সম্পন্ন করা হবে। এই যৌথ নেতৃত্বের সংস্কৃতির প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোন কোন জায়গায় রাষ্ট্রকে সর্বাধিক অবদান রাখতে পারবেন, সেই বিষয়টিও তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকারের শুরুতেই এনসিপির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, দলীয় সংস্কৃতি ও নেতৃত্বের ধরন সম্পর্কে বিশদ ধারণা স্পষ্ট করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তিনি ঐতিহ্যবাহী ও প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলোর একচ্ছত্র কর্তৃত্বवादी ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক ধারার চরম সমালোচনা করে তুলে ধরেন এনসিপির স্বকীয়তা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, এনসিপির ভেতর কোনো একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা নেতা সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেন না বা একক ইচ্ছায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন না। বরং তাঁদের দলীয় কাঠামোর মূল ভিত্তি হলো গভীর ‘কমরেডশিপ’ এবং পারস্পরিক সম্মতির ওপর প্রতিষ্ঠিত মেলবন্ধন। ফলে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হলে, দলীয় উচ্চপর্যায়ে খোলামেলা আলোচনার ভিত্তিতে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েই মন্ত্রী পরিষদের প্রতিটি পোর্টফোলিও বা দায়িত্ব বণ্টন সম্পন্ন করা হবে। এই যৌথ নেতৃত্বের সংস্কৃতির প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোন কোন জায়গায় রাষ্ট্রকে সর্বাধিক অবদান রাখতে পারবেন, সেই বিষয়টিও তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকারের শেষাংশে এনসিপির ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক রূপরেখা, নতুন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন এবং সামগ্রিক রাজনীতি থেকে নিজেদের প্রস্থান নীতি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান এই তরুণ রাজনৈতিক নেতা। ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর মতো বছরের পর বছর পদে আকঁড়ে থাকার সংস্কৃতি থেকে বের হওয়ার বার্তা দিয়ে পাটওয়ারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁরা রাজনীতিতে দীর্ঘকাল মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে নন। বরং দ্রুততম সময়ের মধ্যে বর্তমান সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক দায়ভার ছেড়ে দিয়ে এনসিপির নেতৃত্ব একদম নতুন প্রজন্মের তরুণ নেতৃত্বের হাতে তুলে দিতে চান তাঁরা। রাজনীতি থেকে তুলনামূলক দ্রুত ও আগেভাগেই আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করে পাটওয়ারী বলেন, নতুন ভাবনা ও উদ্দীপনাকে স্থান করে দেওয়ার মধ্য দিয়েই কেবল বাংলাদেশে পরিচ্ছন্ন ও গণমুখী রাজনীতির ধারা অব্যাহত রাখা সম্ভব।
স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত