প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
নাটোরের লালপুরে মাদকের ভয়াল থাবা ও সুনির্দিষ্ট বাণিজ্য প্রতিরোধে পরিচালিত এক ঝটিকা অভিযানে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক ব্যবসায়ী দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে লালপুর থানা পুলিশ। সমাজে মাদকের বিস্তৃতি রোধ এবং অপরাধীদের জালে তুলতে জেলা পুলিশি তৎপরতার ধারাবাহিকতায় পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ক্ষতিকারক মাদকদ্রব্য, মাদক বিক্রির বিপুল অর্থ এবং পাচারে ব্যবহৃত যান। মাদকের ছোবল থেকে তরুণ ও উদীয়মান প্রজন্মকে রক্ষা করতে পুলিশি ব্যবস্থার এমন সময়োপযোগী ও সাহসিক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সচেতন নাগরিক ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
গোপন ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে পাওয়া সংবাদের ওপর ভিত্তি করে বৃহস্পতিবার ভোর রাতে নাটোরের লালপুর উপজেলার মোহরকয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় এই সাহসিক অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। লালপুর থানার উপপরিদর্শক বা এসআই মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে সঙ্গীয় চৌকস পুলিশ সদস্যদের একটি বিশেষ দল ভোর রাতের অন্ধকার ও সুনসান পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে সন্দেহভাজন আস্তানায় ঘেরাও অভিযান চালায়। মোহরকয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা চিহ্নিত অভিযুক্ত নার্গিস খাতুনের বাসভবনে প্রবেশ করে পুলিশ সদস্যরা গভীর অনুসন্ধান ও তল্লাশি জোরদার করেন। সুনির্দিষ্ট স্থান থেকে তল্লাশিকালে উদ্ধার করা হয় মোট ৯০ পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট। পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত মাদকের পাশাপাশি ঘরে থাকা মাদক বিক্রির নগদ ১৮ হাজার টাকা এবং মাদক বেচাকেনা ও সরবরাহের কাজে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল আইনসম্মতভাবে জব্দ করে পুলিশ। অভিযানের স্থানে থাকা মাদক কারবারি দম্পতিকে ঘটনাস্থল থেকেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে গ্রেপ্তার হওয়া এই মাদক কারবারি দম্পতি হলেন মোহরকয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার জবের প্রামাণিকের ৫৫ বছর বয়সী ছেলে মান্টু মিয়া এবং তাঁর ৫০ বছর বয়সী স্ত্রী নারগিছ খাতুন। পরিবারভিত্তিক এই অনৈতিক মাদক ব্যবসার নেপথ্যে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায় যে, তারা দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে অবৈধ মাদকের চালান সংগ্রহ করে এলাকার উঠতি বয়সী তরুণ ও বিভিন্ন মাদকসেবীদের কাছে গোপনে বিক্রি করে আসছিল। সমাজকে কলুষিত করে রাতারাতি বিপুল অর্থ উপার্জনের নেশায় স্বামী ও স্ত্রী দুজন মিলে একত্রিত হয়ে পুরো এলাকায় অবৈধ মাদকের এক বিস্তার গড়ে তুলেছিল বলে স্থানীয় সূত্রে তথ্য মেলে।
পুলিশি তদন্ত ও থানা সূত্রে প্রাপ্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে, গ্রেপ্তারকৃত এই দম্পতি কোনো নতুন বা অনভিজ্ঞ অপরাধী নন; বরং তাঁদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক গুরুতর মাদক মামলা ঝুলছে। অভিযুক্ত নার্গিস খাতুনের বিরুদ্ধে অতীতে ২০২১ এবং ২০২৪ সালে লালপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় অন্তত দুটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছিল। একইভাবে তাঁর স্বামী মান্টু মিয়ার বিরুদ্ধেও ২০২৩ সালে লালপুর থানায় মাদক আইনে পৃথক মামলা রয়েছে। বারবার গ্রেপ্তার হওয়া বা আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও জামিনে বেরিয়ে এসে তাঁরা পুনরায় এই পুরনো ও ঘৃণ্য অপরাধ চক্রে জড়িয়ে পড়ছিলেন, যা এলাকাটিতে মাদকের জোগান বজায় রাখতে ভূমিকা রাখছিল।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে পাওয়া গোপন ও অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবরের ভিত্তিতে লালপুর থানা পুলিশের একটি বিশেষ চৌকস টিম বৃহস্পতিবার ভোর রাতের দিকে লালপুর উপজেলার মোহরকয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের নেতৃত্ব দেন লালপুর থানার উপপরিদর্শক বা এসআই মনিরুল ইসলাম। ভোর রাতের অন্ধকার ও সাধারণ মানুষের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা যাতে পালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য পুলিশি দলটি নিশব্দে পুরো এলাকা ঘেরাও করে ফেলে। এরপর প্রামাণিক বাড়ির কাছে অবস্থিত চিহ্নিত অভিযুক্ত নার্গিস খাতুনের বাসভবনে আচমকা প্রবেশ করে তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়। পুলিশি দলটির সুনিপুণ তল্লাশিতে বসতঘরের গোপন স্থান থেকে একে একে উদ্ধার করা হয় মোট ৯০ পিস গোলাপি রঙের নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে ওই ইয়াবা ক্সসহ ঘরে থাকা মাদক বেচাকেনার নগদ ১৮ হাজার টাকা এবং মাদক দ্রুত পরিবহন ও গ্রাহকদের কাছে সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরবাইক বা মোটরসাইকেল আলামত হিসেবে জব্দ করে পুলিশ। অভিযানের সময় ঘটনাস্থলেই অবস্থানরত মাদক কারবারি দম্পতিকে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে গ্রহণ করে।
পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া পরিবারভিত্তিক এই মাদক কারবারি দম্পতি হলেন মোহরকয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা জবের প্রামাণিকের ৫৫ বছর বয়সী ছেলে মান্টু মিয়া এবং তাঁর ৫০ বছর বয়সী স্ত্রী নারগিছ খাতুন। প্রাথমিক অনুসন্ধান ও স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনায় জানা যায়, এই দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে গৃহস্থালি কাজের আড়ালে অত্যন্ত সুচতুরভাবে অবৈধ মাদকের বিস্তার ঘটিয়ে আসছিলেন। সীমান্ত ও আশেপাশের এলাকা থেকে মাদকের চালান সংগ্রহ করে এনে তারা নিজেদের বাড়িতে মজুদ করতেন এবং পরবর্তীতে লালপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের উঠতি বয়সের যুবক, ছাত্র ও নিয়মিত মাদকসেবীদের কাছে চড়া দামে তা পৌঁছে দিতেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে একটি সুসংগঠিত চক্রের মতো কাজ করে রাতারাতি বিপুল অর্থ বানানোর মোহে এই ঘৃণ্য ব্যবসায় লিপ্ত হয়েছিলেন বলে জানা যায়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা অপরাধ জগতে নতুন কোনো মুখ নন; বরং পুলিশের পুরনো নথিপত্র ও পূর্বের রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে, তাঁরা দীর্ঘ দিন ধরে নিয়মিত আইন অমান্য করে মাদক ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন। লালপুর থানার নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত নার্গিস খাতুনের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে ২০২১ সাল এবং ২০২৪ সালে লালপুর থানায় দেশের কঠোর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে পৃথক দুটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছিল। একইভাবে তাঁর স্বামী মান্টু মিয়ার বিরুদ্ধেও ২০২৩ সালে লালপুর থানায় একই আইনে মামলা রুজু করা হয়। বারবার গ্রেপ্তার হওয়া বা আইনি প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও জামিনে মুক্ত হয়ে তারা পুনরায় পুরনো মাদক সিন্ডিকেটে সক্রিয় হয়ে উঠতেন, যা পুরো এলাকার সামাজিক সুরক্ষাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছিল।
অভিযান, আলামত জব্দ ও গ্রেপ্তারের পুরো বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসি শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির নগদ টাকা ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধারের ঘটনায় লালপুর থানায় গ্রেপ্তারকৃত মান্টু মিয়া এবং নারগিছ খাতুনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় নতুন করে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পূর্বে থাকা মামলাগুলোর পর্যালোচনা যুক্ত করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কঠোর বিচারিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। থানা থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে আসামিদের কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নাটোর জেলা বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের শিকড় উপড়ে ফেলে লালপুরকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত এ ধরনের জিরো টলারেন্স অভিযান ও তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে পুলিশ প্রশাসন।
অভিযান ও গ্রেপ্তারের সার্বিক বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসি শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান যে, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য, নগদ অর্থ ও পরিবহন যান জব্দের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত মান্টু মিয়া ও নারগিছ খাতুনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় লালপুর থানায় নতুন করে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। একই সাথে তাঁদের বিরুদ্ধে পূর্বে থাকা মামলাগুলোর নথি যুক্ত করে আইনি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে কড়া পুলিশি পাহারায় আসামিদের নাটোর বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। সমাজকে শতভাগ মাদকমুক্ত রাখতে এমন কঠোর ও নিরবচ্ছিন্ন অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে পুলিশ প্রশাসন।
স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত