অর্থ পাচার ঠেকাতে বিকাশের বিশেষ সেমিনার

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৫ বার

প্রকাশ: ৫ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) মাধ্যমে অনলাইনভিত্তিক অর্থ লেনদেনের পরিধি যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি ও দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা। এই বাস্তবতায় অনলাইনে অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং) এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন (টেররিস্ট ফাইন্যান্সিং) প্রতিরোধে নিজেদের কর্মকর্তাদের সক্ষমতা আরও বাড়াতে দুই দিনব্যাপী একটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ।

‘ম্যানেজিং এমএল ও টিএফ রিস্কস ইনভলভিং অনলাইন কানেকটিভিটি’ শীর্ষক এই অর্ধবার্ষিক সেমিনারে অনলাইন লেনদেনের ঝুঁকি, নতুন ধরনের আর্থিক অপরাধের কৌশল এবং সেগুলো মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সম্প্রতি আয়োজিত এই সেমিনারে আর্থিক খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিকাশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমান সময়ে ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে অর্থ পাচার ও অবৈধ অর্থ প্রবাহের ঝুঁকিও নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ভার্চ্যুয়াল অ্যাসেট এবং সীমান্তহীন ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে অপরাধীরা বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অপরাধের চেষ্টা করছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় কর্মকর্তাদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সেমিনারে তুলে ধরা হয়।

সেমিনারে অনলাইন জুয়া ও বেটিং কার্যক্রম, ভার্চ্যুয়াল অ্যাসেটের (ভিএ) অবৈধ লেনদেন এবং অনলাইন কানেকটিভিটিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি এসব অপরাধ শনাক্ত করার কৌশল, ঝুঁকি মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আর্থিক সেবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতাই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি প্রয়োজন প্রশিক্ষিত ও সচেতন জনবল। কারণ অর্থ পাচার বা অবৈধ অর্থ প্রবাহের মতো অপরাধগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন কৌশল গ্রহণ করছে। ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদেরও নিয়মিতভাবে নতুন ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে হয়।

সেমিনারে আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণ, সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় সময়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে তথ্য দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি শক্তিশালী অ্যান্টি মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ ব্যবস্থা (এএমএল-সিএফটি) শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নয়, বরং পুরো আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কামাল কাদীরসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন চিফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার ও চিফ অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার শেখ মো. মনিরুল ইসলাম, চিফ কাস্টমার সার্ভিস অফিসার নিশাত রহমান, চিফ লিগ্যাল অফিসার মাজেদুল ইসলাম এবং এএমএল অ্যান্ড সিএফটি বিভাগের প্রধান সাবের শরীফ।

এ ছাড়া সেমিনারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ব্যাংক ও আর্থিক খাতের এএমএল-সিএফটি কর্মকর্তা এবং প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাঁদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, ঝুঁকি মোকাবিলার বাস্তব চ্যালেঞ্জ এবং কার্যকর সমাধানের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

ডিজিটাল আর্থিক সেবার ব্যবহার দ্রুত বাড়ার কারণে গ্রাহকদের জন্য যেমন সুবিধা তৈরি হয়েছে, তেমনি নিরাপত্তার বিষয়টিও আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে এখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও সহজে অর্থ পাঠানো, বিল পরিশোধ, কেনাকাটা ও বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন। এই বিস্তৃত ব্যবস্থাকে নিরাপদ রাখতে অবৈধ লেনদেন প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিকাশ দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক অপরাধের ধরনও পরিবর্তিত হচ্ছে। আগে যেখানে প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে অপরাধ সংঘটিত হতো, এখন সেখানে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট এবং ভার্চ্যুয়াল সম্পদের ব্যবহার বাড়ছে। তাই আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।

বিকাশের এই সেমিনার সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক আর্থিক অপরাধ মোকাবিলায় প্রস্তুতি বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতকে আরও নিরাপদ করার লক্ষ্যেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দেশে ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকের আস্থা ধরে রাখা এবং আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধ—দুই বিষয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং কার্যকর নীতিমালার সমন্বয় ভবিষ্যতের নিরাপদ ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত