প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দীর্ঘ দুই মাসের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা শাকিব খান। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের অন্যতম ব্যস্ত এই তারকা। দীর্ঘ সময় পর দেশে ফেরায় তার ভক্তদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে আগ্রহ। দেশে ফিরেই নতুন সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠতে যাচ্ছেন তিনি।
জানা গেছে, ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন শাকিব খান। নির্ধারিত কাজগুলো শেষ করে প্রায় দুই মাস পর দেশে ফিরেছেন তিনি। দীর্ঘ সফর শেষে ঢাকায় ফিরে এবার তার সামনে রয়েছে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের কাজ। বিশেষ করে নতুন সিনেমার শুটিং এবং ‘সোলজার’ সিনেমার বাকি অংশের কাজ নিয়ে শিগগিরই ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন তিনি।
গত ২ জুলাই রাতে একটি ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন শাকিব খান। দেশ ছাড়ার আগে একই দিনে মেহেদী হাসান হৃদয়ের পরিচালনায় একটি নতুন সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগেই তার পরবর্তী চলচ্চিত্রের কাজের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পন্ন হয়েছিল।
নতুন সিনেমাটির শুটিং শিগগিরই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নতুন ছবির শুটিংয়ে যাওয়ার আগে ‘সোলজার’ সিনেমার শেষ অংশের কয়েকটি দৃশ্যের কাজ শেষ করবেন শাকিব। সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে ‘সোলজার’-এর বাকি দৃশ্যগুলোর শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। এরপরই নতুন সিনেমার শুটিংয়ে পুরোদমে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন এই অভিনেতা।
দুই মাসের বিরতির পর দেশে ফিরে শাকিব খানের কর্মব্যস্ত সময়সূচি তাই বেশ দ্রুত শুরু হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন পর দেশে ফেরার পর সাধারণত কোনো তারকার ব্যক্তিগত ব্যস্ততা ও গণমাধ্যমের আগ্রহ দুটোই বেড়ে যায়। শাকিবের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। তার নতুন সিনেমা, শুটিংয়ের সময়সূচি এবং পরবর্তী চলচ্চিত্র পরিকল্পনা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ইতোমধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে শাকিব খানের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষ। ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে একাধিক জনপ্রিয় ও ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দেশের দর্শকদের মধ্যে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। সময়ের সঙ্গে চলচ্চিত্রের গল্প, নির্মাণশৈলী এবং দর্শকের রুচিতে পরিবর্তন এলেও বড় পর্দায় শাকিব খানকে ঘিরে আগ্রহ এখনো উল্লেখযোগ্য। নতুন কোনো সিনেমার ঘোষণা এলেই সেটি নিয়ে দর্শক ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরেও নিজের কাজের পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন শাকিব খান। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে তার নিয়মিত যাতায়াতের কারণে দেশের বাইরে বসবাসরত বাংলাদেশি দর্শকদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে দেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকার উপস্থিতি বরাবরই আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে। যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময়ও ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক কাজের পাশাপাশি নানা সামাজিক ও পেশাগত কার্যক্রমে তার উপস্থিতি নিয়ে আগ্রহ থাকে ভক্তদের।
শাকিব খানের যুক্তরাষ্ট্র সফর অবশ্য নতুন কোনো বিষয় নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময় সিনেমার কাজ, পারিবারিক প্রয়োজন এবং ব্যক্তিগত নানা কারণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। দেশটির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। ফলে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে সেখানে অবস্থান করাটা তার নিয়মিত জীবনযাপনের অংশ হয়ে উঠেছে।
শাকিব খান যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারী। এ কারণে দেশটির অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট সময় সেখানে অবস্থান করার প্রয়োজন হয়। এবারও ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক কাজের পাশাপাশি সেই প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন বলে জানা গেছে। দুই মাসের সফর শেষে দেশে ফেরার পর এখন তার মূল মনোযোগ আবারও চলচ্চিত্রের কাজে।
একজন জনপ্রিয় অভিনেতার দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান অনেক সময় তার নতুন সিনেমার কাজের ওপরও প্রভাব ফেলে। তবে শাকিবের ক্ষেত্রে এবার দেশে ফেরার পর কাজের পরিকল্পনা আগে থেকেই নির্ধারিত রয়েছে। ‘সোলজার’-এর বাকি দৃশ্যের শুটিং শেষ করার পর নতুন সিনেমায় যুক্ত হওয়ায় তার ব্যস্ততা দ্রুত বাড়বে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে তাকে পরপর একাধিক চলচ্চিত্রের কাজে দেখা যেতে পারে।
‘সোলজার’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহও কম নয়। সিনেমাটির বাকি কিছু দৃশ্যের শুটিং শেষ হলেই নির্মাণকাজ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। শাকিবের দেশে ফেরার ফলে সেই কাজ দ্রুত শেষ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এরপর নতুন সিনেমার শুটিং শুরু হলে আবারও নতুন চরিত্র ও গল্প নিয়ে দর্শকদের সামনে আসার প্রস্তুতি নেবেন তিনি।
চলচ্চিত্রশিল্পের জন্য একজন বড় তারকার নিয়মিত কর্মব্যস্ততা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জনপ্রিয় অভিনেতাদের সিনেমা ঘিরে শুধু দর্শকের আগ্রহই তৈরি হয় না, এর সঙ্গে যুক্ত থাকে প্রযোজনা, নির্মাণ, অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলী, পরিবেশনা ও প্রেক্ষাগৃহকেন্দ্রিক একটি বড় কর্মপরিসর। শাকিব খানের নতুন সিনেমার কাজ শুরু হওয়ায় সেই অর্থে চলচ্চিত্র অঙ্গনের সংশ্লিষ্ট অনেকের মধ্যেও নতুন প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে।
দুই মাস যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পর দেশে ফেরার মুহূর্তটি শাকিব খানের ক্যারিয়ারের একটি নতুন ব্যস্ত পর্বের সূচনাও হতে যাচ্ছে। একদিকে অসমাপ্ত সিনেমার কাজ শেষ করা, অন্যদিকে নতুন সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নেওয়া—দুটি কাজই এখন তার সামনে। দর্শকের প্রত্যাশা পূরণে নতুন সিনেমাগুলোতে তিনি কী ধরনের চরিত্রে হাজির হন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
দেশে ফেরার পর শাকিব খানকে ঘিরে ভক্তদের আগ্রহের আরেকটি কারণ হলো তার পরবর্তী কাজের ধারাবাহিকতা। চলচ্চিত্রে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দর্শক তাকে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে দেখেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বড় পর্দায় নতুন গল্প ও নির্মাণশৈলীর সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ফলে নতুন সিনেমায় তার চরিত্র ও অভিনয়ের ধরন কেমন হবে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল রয়েছে।
সব মিলিয়ে দুই মাসের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে শাকিব খানের দেশে ফেরাকে তার কর্মজীবনের ব্যস্ত একটি নতুন অধ্যায়ের শুরু হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক কাজ শেষে এখন আবার চলচ্চিত্রের সেটে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। আগামী সপ্তাহে ‘সোলজার’-এর শেষ অংশের শুটিং এবং এরপর নতুন সিনেমার কাজ শুরু হলে দীর্ঘ বিরতির পর তাকে পরপর চলচ্চিত্রের কাজে দেখা যাবে। বড় পর্দায় শাকিব খানের নতুন উপস্থিতির অপেক্ষায় থাকা দর্শকদের জন্য এটিই এখন সবচেয়ে বড় খবর।