প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় কবরস্থানের জমিতে দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৫৬ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার রংছাতী ইউনিয়নের আমগড়া ও বানেশ্বরপাড়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের সময় আমগড়া বাজারের কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অর্ধশতাধিক আহত ব্যক্তি কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমগড়া এলাকায় প্রায় ১৮ কাঠা জমির ওপর একটি কবরস্থান রয়েছে। এই জমির মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে আমগড়া এবং বানেশ্বরপাড়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
সম্প্রতি কবরস্থানের রাস্তার পাশের জমিতে এক পক্ষ দোকান নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। তবে অপর পক্ষ ওই জমিতে দোকান নির্মাণে বাধা দেয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
শুক্রবার সকালে দোকান নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষ ঘটনাস্থলে মুখোমুখি হলে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫৬ জন আহত হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আমগড়া বাজারের কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
খবর পেয়ে কলমাকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের পর এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক এমএমএস মাটি জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৫৬ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কলমাকান্দা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কবরস্থানের জমিতে দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরিস্থিতি যাতে আবারও উত্তপ্ত না হয়, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজর রাখছে।