ময়মনসিংহে সবচেয়ে বেশি, চট্টগ্রামে কম পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
  • ১২ বার

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এবার পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের পরিসংখ্যানও সামনে এসেছে। প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে। বিপরীতে সবচেয়ে কম পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে।

সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা যায়। চলতি বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে। গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে, এই হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ফলে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট।

অনুপস্থিতির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ হাজার ৫৮৫ জন পরীক্ষার্থী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। অনুপস্থিতির দিক থেকে এটি দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যা। এর পরের অবস্থানে রয়েছে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড। এই বোর্ডে ২ হাজার ৯৪২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নেয়নি ২ হাজার ৯০৮ জন। অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ। এরপর রয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। সেখানে ২ হাজার ৮৬৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় উপস্থিত হয়নি।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে অনুপস্থিত ছিল ২ হাজার ৬০৪ জন পরীক্ষার্থী। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এ সংখ্যা ২ হাজার ৪৪৩। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ১ হাজার ৩৯০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।

তুলনামূলকভাবে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে অনুপস্থিতির সংখ্যা অনেক কম। এই বোর্ডে ৬০৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় উপস্থিত হয়নি। আর সবশেষে রয়েছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড। সেখানে অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৬৩ জন।

ফল প্রকাশের পর অনুপস্থিতির এই চিত্র শিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এনেছে। এসএসসি পরীক্ষা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শুধু একটি একাডেমিক মূল্যায়নের বিষয় নয়; উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ, কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ কিংবা কর্মজীবনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও এর ফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ।

তবে শুধু অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যার ভিত্তিতে কোনো বোর্ডের শিক্ষার মান বা শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি সম্পর্কে সরাসরি সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। পরীক্ষায় অনুপস্থিতির পেছনে নানা ধরনের কারণ থাকতে পারে। অসুস্থতা, পারিবারিক পরিস্থিতি, আর্থিক সমস্যা, স্থানান্তর, পরীক্ষার প্রস্তুতির ঘাটতি কিংবা অন্য কোনো অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে একজন নিবন্ধিত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ না-ও নিতে পারেন। তাই এসব পরিসংখ্যানের পাশাপাশি অনুপস্থিতির কারণও আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নেয়। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর এসএসসি পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২০ মে। অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি ও ভোকেশনাল পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে।

এরপর ফল প্রকাশের জন্য খাতা মূল্যায়ন, ফলাফল প্রস্তুত এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। শেষ পর্যন্ত সোমবার একযোগে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ফল প্রকাশ করা হয়। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট এবং মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারছে।

চলতি বছরের ফলাফলে পাসের হার কমে যাওয়ার পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাতেও পরিবর্তন এসেছে। ফলে ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের সাফল্য-ব্যর্থতার পাশাপাশি অনুপস্থিতির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

ময়মনসিংহ বোর্ডে সবচেয়ে বেশি এবং চট্টগ্রাম বোর্ডে সবচেয়ে কম পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি অবশ্য মোট পরীক্ষার্থীসংখ্যার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। কোনো বোর্ডে পরীক্ষার্থী বেশি হলে স্বাভাবিকভাবেই অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর মোট সংখ্যাও বেশি হতে পারে। আবার পরীক্ষার্থীসংখ্যা তুলনামূলক কম হলে মোট অনুপস্থিতির সংখ্যাও কম দেখা যেতে পারে। তাই বোর্ডভিত্তিক অনুপস্থিতির প্রকৃত চিত্র বুঝতে মোট পরীক্ষার্থীর তুলনায় অনুপস্থিতির হার বিশ্লেষণ করা আরও কার্যকর হতে পারে।

শিক্ষাবিদদের দৃষ্টিতে, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা শুধু পরীক্ষার দিনের ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, বিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযোগ, অভিভাবকের নজরদারি, মানসিক প্রস্তুতি এবং পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ—সবকিছুই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ না নিলে তার শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতায় এর প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি দীর্ঘদিনের আলোচিত বিষয়। যদিও পরীক্ষায় অনুপস্থিতি এবং স্থায়ীভাবে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়া একই বিষয় নয়, তবু বড় কোনো বোর্ডে অনুপস্থিতির সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতি নিয়ে আরও গভীরভাবে অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি হয়।

এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল তাই শুধু পাস-ফেলের হিসাব নয়; এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শিক্ষার ধারাবাহিকতা এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের নানা প্রশ্ন। ময়মনসিংহে কেন অনুপস্থিতির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এবং চট্টগ্রামে কেন তা তুলনামূলকভাবে কম—এই পার্থক্যের কারণগুলো আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা হলে দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।

ফল প্রকাশের পর এখন শিক্ষার্থীদের সামনে পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতি। যারা উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রস্তুতি শুরু হবে। আর যারা প্রত্যাশিত ফল পায়নি, তাদের জন্য রয়েছে পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ। একই সঙ্গে পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও তাদের ব্যক্তিগত ও শিক্ষাগত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রতিবছরই শিক্ষার্থী, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একটি বড় মুহূর্ত। এবারের ফলাফলে পাসের হার কমে যাওয়ার পাশাপাশি বোর্ডভেদে অনুপস্থিতির যে পার্থক্য দেখা গেছে, তা শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে আরও তথ্যভিত্তিক পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তাই তুলে ধরছে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত