সারা দেশে সমান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: সেলিমা রহমান

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
  • ১১ বার

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়াকে সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও অবহেলার অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে একটি সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও সুষম বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিএনপি নেতাকর্মী ও স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেলিমা রহমান বলেন, দেশের উন্নয়ন যেন কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরাঞ্চল পর্যন্ত সব মানুষের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা সরকারের উন্নয়ন ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন, বাস্তবতা এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনাকে বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

তিনি আরও বলেন, বৈষম্য দূর করে দেশের সব অঞ্চলে সমানভাবে উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং প্রশাসনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। শুধু উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না, সেগুলোর বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ তার সুফল পাচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

বরগুনায় আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় স্থানীয় উন্নয়ন ও জনসেবার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। উপকূলীয় এই জেলার মানুষের জীবনযাত্রা, যোগাযোগব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রশাসনিক সেবার মানোন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও সভায় মতামত তুলে ধরা হয়।

সভায় বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা অলিউল্লাহ অলি স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে সততা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে এলাকার সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করা এবং সেগুলোর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব বলেও সভায় আলোচনা হয়। বিশেষ করে সাধারণ নাগরিকের সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা কমানো এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বরগুনার জেলা প্রশাসক তাসলিমা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা, জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফাত্তাহসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় বরগুনার সার্বিক উন্নয়ন পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবার পরিধি বাড়ানো, নাগরিকদের কাছে দ্রুত ও কার্যকর সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

স্বাস্থ্যসেবার প্রসার নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। বরগুনার মতো উপকূলীয় অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো ও জনবল নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ যাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত ভোগান্তিতে না পড়েন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও সক্রিয় হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়।

প্রশাসনিক কার্যক্রমকে জনবান্ধব করার বিষয়টিও সভার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায়। নাগরিকদের বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সময় ও হয়রানি কমানো, অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সেলিমা রহমানের বক্তব্যে দেশের সব অঞ্চলে সুষম উন্নয়নের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক ও আর্থসামাজিক বাস্তবতা এক নয়। উপকূলীয় অঞ্চল, নদীভাঙনপ্রবণ এলাকা, চরাঞ্চল কিংবা শহরাঞ্চলের মানুষের প্রয়োজনও ভিন্ন। ফলে স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে তার সুফল আরও কার্যকরভাবে জনগণের কাছে পৌঁছানো সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়ও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। জনপ্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সরাসরি বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা জানতে পারেন। অন্যদিকে প্রশাসনের হাতে থাকে সরকারি নীতি ও উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব। দুই পক্ষের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ থাকলে স্থানীয় সমস্যার অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করা সহজ হতে পারে।

মতবিনিময় সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা বাড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সেলিমা রহমানের বক্তব্যে উঠে আসা উন্নয়নের সমতা ও বৈষম্য দূর করার বিষয়টি বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন আলোচনার সঙ্গেও সম্পর্কিত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং নাগরিক সেবার সুযোগে পার্থক্য রয়েছে। এসব ব্যবধান কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনভিত্তিক উন্নয়ন এবং সরকারি সম্পদের কার্যকর ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বরগুনার মতবিনিময় সভায় স্থানীয় উন্নয়ন, জনসেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হলেও এর মূল লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসনের মধ্যে যোগাযোগ আরও কার্যকর করা। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে এই সমন্বয় কতটা কার্যকর হয়, সেটিই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সভায় অংশ নেওয়া রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বরগুনার উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার মান বাড়ানোর বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পাশাপাশি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে, বরগুনায় অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় আঞ্চলিক বৈষম্য কমানো এবং স্থানীয় জনগণের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নয়নের সুফল প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যাশাই সভায় গুরুত্ব পেয়েছে।

আরো খবর জানতে ক্লিক করুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত