ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় প্রাণ গেল বাবার

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩ বার

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঝালকাঠির নলছিটিতে ছেলেকে হামলার হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় আক্কাস খান (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছেলে জসিম খান (৩২) গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত আক্কাস খানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ১১টার দিকে গৌরনদী উপজেলা এলাকায় তার মৃত্যু হয়। সোমবার সকালে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহত আক্কাস খান গোবিন্দপুর গ্রামের মো. মিরাজ খানের ছেলে। স্থানীয় সূত্র ও নিহতের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার ছেলে জসিম খানের সঙ্গে প্রতিবেশী সজল খানের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা ছিল বলে জানা গেছে।

ঘটনার দিন বিকেলে বাড়ির সামনের সড়কে জসিম খানকে একা পেয়ে সজল খান, তার বাবা সেলিম খান, ভাই শফিক খান ও তাদের সহযোগীরা হামলা চালান বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা। এ সময় জসিমের চিৎকার শুনে তাকে রক্ষা করতে আক্কাস খান এগিয়ে এলে তিনিও হামলার শিকার হন।

স্বজনদের অভিযোগ, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে বাবা ও ছেলেকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে তাদের চিৎকার ও পরিস্থিতি দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহত দুজনকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাদের নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর আক্কাস খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে গুরুতর আহত জসিম খানকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আক্কাস খানের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছেলেকে রক্ষা করতে গিয়ে বাবার প্রাণ হারানোর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের বিরোধ কীভাবে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নিল, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলার সঙ্গে কারা কীভাবে জড়িত ছিলেন, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান সোহাগ জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পারিবারিক বা ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘাতের ঘটনা অনেক সময় দ্রুত ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। গোবিন্দপুরের এই ঘটনাতেও বিরোধের জেরে একদিকে একজনের প্রাণহানি ঘটেছে, অন্যদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে তার ছেলেকে। এখন তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই পরিবারের প্রত্যাশা।

ঘটনার পর এলাকায় যাতে নতুন করে কোনো উত্তেজনা বা সংঘাত সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আক্কাস খানের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত