রাষ্ট্রপতি পদে ফখরুলের নাম, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ২০ বার

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট, ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্র এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে এ বিষয়ে এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

রোববার (৯ আগস্ট) দলীয় একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করার বিষয়ে দলীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত রয়েছে। তাঁর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, প্রধানমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ একাধিক নেতার সঙ্গে আলোচনার পর মির্জা ফখরুলের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। যদিও বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, দলীয় সিদ্ধান্ত যথাসময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে সরকারি দল বিএনপি। রোববার সকালে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রয়োজন হলে ওই দিন জাতীয় সংসদ ভবনে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যদি একজন বৈধ প্রার্থীই থাকেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনো বৈধ প্রার্থী না থাকেন, তাহলে সংবিধান ও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ভোটগ্রহণ ছাড়াই তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা সম্ভব।

জাতীয় সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সংসদীয় পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় সংসদের সদস্যরাই ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। ফলে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের অবস্থান এ নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হলে সেটি শুধু একটি সাংবিধানিক পদে নিয়োগ নয়, বরং বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকারও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কয়েক দশক ধরে দলটির অন্যতম মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মির্জা ফখরুল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত একজন রাজনীতিক। আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্বাচন, সংসদীয় রাজনীতি এবং বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে দলের অবস্থান তুলে ধরতে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

তবে এখন পর্যন্ত বিএনপির কোনো আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন বা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়নি। ফলে রাজনৈতিক মহলে জোরালো আলোচনা থাকলেও বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম আলোচনায় থাকলেও দলীয় সিদ্ধান্ত প্রকাশের পরই বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, জমা, যাচাই-বাছাই এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করে নির্বাচন সম্পন্ন হবে। যদি একাধিক প্রার্থী বৈধভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকেন, তাহলে জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে একজন মাত্র বৈধ প্রার্থী থাকলে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংবিধান অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের পরামর্শ অনুযায়ী অধিকাংশ নির্বাহী কার্যক্রম সম্পাদন করেন। পাশাপাশি বিচারপতি নিয়োগ, আইন অনুমোদন, সংসদ অধিবেশন আহ্বানসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক দায়িত্বও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পেলে সেটি দেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রশাসন, সংসদ এবং দলীয় নেতৃত্ব—সব ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। ফলে তাঁর সম্ভাব্য মনোনয়ন নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। তাই আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন, প্রার্থিতা যাচাই এবং নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ঘোষণা সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং রাজনৈতিক দলের লিখিত সিদ্ধান্তই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই এবং প্রার্থিতার বিষয়ে স্পষ্ট চিত্র সামনে আসবে। এরপরই নিশ্চিত হবে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কে হচ্ছেন চূড়ান্ত প্রার্থী এবং ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে কি না। আপাতত রাজনৈতিক অঙ্গনের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে বিএনপির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত