পুরোনো ছবি নিয়ে পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ১ বার

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট, ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁর একটি পুরোনো ছবি বিকৃত প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দাবি করেছেন, তিনি মূলত ছবিতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় এবং একটি প্রশাসনিক নিয়োগ নিয়ে জনস্বার্থে প্রশ্ন তুলেছেন।

রোববার (৯ আগস্ট) শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে এ অভিযোগ করা হয়। সেখানে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ছবিটি নতুন কোনো বৈঠকের নয়। এটি ২০২৩ সালের ৪ মে সময় টেলিভিশনের একটি টকশোতে অংশগ্রহণের আগে তোলা একটি পুরোনো ছবি। সেই ছবিকে বর্তমান সময়ের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক অপপ্রচারের চেষ্টা চলছে বলে দাবি করা হয়।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনামলেও ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে পুরোনো ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, বর্তমানে দেশের শিক্ষা খাতে যে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তা বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে গুজব ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। পুরোনো ছবি এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহার করে জনগণের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল আচরণ নয়। একই পোস্টে ছবি ও তথ্য বিকৃতভাবে উপস্থাপনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সত্য ও যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে আলোচনা করার আহ্বান জানানো হয়।

এর আগে একই দিন সকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ছবি প্রকাশ করেন। ছবিতে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান এবং আরও একজন ব্যক্তিকে একসঙ্গে বসে থাকতে দেখা যায়। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বিশেষ বৈঠক।”

তবে ছবির নিচে দৃশ্যমান ক্যামেরার স্বয়ংক্রিয় সময়-তারিখে ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল রাত ৯টা ৪৫ মিনিট উল্লেখ থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেক ব্যবহারকারী পোস্টটির সময়কাল এবং প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সমালোচনার মুখে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টের মন্তব্য অংশে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা যুক্ত করেন।

সেখানে তিনি দাবি করেন, ছবিতে শিক্ষামন্ত্রী ও শাজাহান খানের সঙ্গে থাকা অপর ব্যক্তি হলেন পুলিশ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই চৌধুরী, যিনি বর্তমানে চাঁদপুরের কচুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আরও দাবি করেন, ওই কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সুমনের ভাই। এ প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন রাখেন, বর্তমান প্রশাসনে ওই কর্মকর্তার দ্রুত পদোন্নতি এবং শিক্ষামন্ত্রীর নিজ এলাকায় পদায়নের বিষয়টি স্বচ্ছতা ও নীতিগত দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর পোস্টে বলেন, বিষয়টি জনগণের জানার অধিকার এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যদি কোনো নিয়োগ বা পদায়নে স্বজনপ্রীতি কিংবা বিশেষ প্রভাব থেকে থাকে, তবে তার নিরপেক্ষ ব্যাখ্যা জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত। যদিও তিনি তাঁর দাবির পক্ষে কোনো সরকারি নথি বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ করেননি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি বা ভিডিও অনেক সময় প্রকৃত প্রেক্ষাপট ছাড়া প্রচারিত হলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পুরোনো ছবি নতুন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে উপস্থাপন করা হলে জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আবার অন্যদিকে, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে প্রশ্ন তোলাও গণতান্ত্রিক আলোচনার অংশ। তবে সেই প্রশ্নের ভিত্তি হতে হবে যাচাইযোগ্য তথ্য ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ।

ডিজিটাল তথ্য যাচাই নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত যেকোনো ছবি বা তথ্য শেয়ার করার আগে তার সময়, স্থান এবং প্রকৃত প্রেক্ষাপট যাচাই করা প্রয়োজন। বর্তমানে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত উপায়ে পুরোনো ছবি নতুন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে প্রচারের ঘটনা বিশ্বজুড়েই বেড়েছে। ফলে তথ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষেরও সতর্ক থাকা জরুরি।

এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকে পুরোনো ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগ বা প্রশ্ন থাকলে তা যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য হলো, তিনি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং জনস্বার্থের প্রশ্ন তুলেছেন, যা গণতান্ত্রিক সমাজে আলোচনার অংশ।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন রাজনৈতিক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ফলে জনপরিসরে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি এবং জনসম্পৃক্ত ব্যক্তিদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো তথ্য বা অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এবং যাচাইযোগ্য তথ্য বিবেচনায় নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত