মধ্যপ্রাচ্যে নতুন রণতরি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৯ বার

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। পূর্বনির্ধারিত রোটেশনের অংশ হিসেবে ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’কে ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হচ্ছে। এটি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর স্থলাভিষিক্ত হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে মোতায়েন রয়েছে। ইরানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক তৎপরতা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতির কারণে রণতরিটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ও বন্দরে অবস্থানের সুযোগও সীমিত হয়েছে।

দীর্ঘ এই মোতায়েনকে কেন্দ্র করে রণতরিটির প্রায় পাঁচ হাজার ক্রু ও নাবিকের জীবনযাত্রা এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কয়েকজন জাহাজে মৌলিক সরবরাহের ঘাটতি, পানি ও প্লাম্বিং সমস্যা এবং ডাক ব্যবস্থায় বিঘ্নের মতো অভিযোগ সামনে এনেছেন।

কানেকটিকাটের সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা পরিস্থিতি নিয়ে নৌবাহিনীর কাছে জবাবদিহি চেয়েছেন। তাদের বক্তব্য, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের কারণে নাবিকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে এবং তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি।

তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এসব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, মার্কিন নৌবাহিনী প্রতিটি জাহাজ ও নাবিককে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করছে।

অন্যদিকে, মার্কিন নৌবাহিনী স্বীকার করেছে যে চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের প্রচলিত সরবরাহ ব্যবস্থা কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে সাময়িকভাবে কিছু রসদসংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী।

এদিকে, নতুন করে মোতায়েন হতে যাওয়া ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন সম্প্রতি ভিয়েতনামের দা নাং বন্দর ছেড়েছে। রণতরিটি সিঙ্গাপুর ও মালাক্কা প্রণালি হয়ে ভারত মহাসাগরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে একটি ক্রুজার ও একটি ডেস্ট্রয়ারও রয়েছে বলে জানা গেছে।

নতুন রণতরির এই মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতির পাশাপাশি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে। কারণ, ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌ-উপস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেটিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠালে ওই অঞ্চলে সাময়িকভাবে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি কমতে পারে।

বিশেষ করে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও কৌশলগত প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র যখন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি জোরদারের চেষ্টা করছে, তখন একটি বিমানবাহী রণতরিকে মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়া তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।

তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দৃষ্টিতে এটি মূলত নিয়মিত রোটেশন। অর্থাৎ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘ মোতায়েনের পর তার পরিবর্তে নতুন রণতরি পাঠানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতা ও উপস্থিতি বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তার ওপরও এই মোতায়েনের গুরুত্ব অনেকাংশে নির্ভর করবে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে নতুন রণতরিটি মার্কিন সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আবার উত্তেজনা কমে এলে এর উপস্থিতি মূলত প্রতিরোধমূলক ও কৌশলগত অবস্থান প্রদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্যে যাত্রা ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ক্রুদের ওপর তৈরি হওয়া চাপও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত