প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণে মান্নান সরদার (৭০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রিপন মোল্লা নামে এক ব্যক্তির একটি হাত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের লাউখোলা এলাকায় এ সংঘর্ষ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত মান্নান সরদার পার্শ্ববর্তী সেনেরচর ইউনিয়নের চরধুপুর চরকান্দি এলাকার মৃত আলিউদ্দিন সরদারের ছেলে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লাউখোলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রেজাউল শিকদার ও তার সমর্থকদের সঙ্গে তমিজ খাঁ এবং তার সমর্থকদের বিরোধ চলে আসছিল।
সোমবার রাতে ওই বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের লোকজন লাউখোলা এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সেখানে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, সংঘর্ষের সময় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
রেজাউল শিকদারের পক্ষের সমর্থক হিসেবে পরিচিত মান্নান সরদারকে গুরুতর আহত অবস্থায় জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, তমিজ খাঁর পক্ষের সমর্থক রিপন মোল্লা বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন। তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রোমান বাদশাহ বলেন, বিস্ফোরণের আঘাত নিয়ে দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজনের হাত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্য ব্যক্তিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নতুন করে কোনো সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ বলেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ, ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে কারা জড়িত এবং হতাহতের ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের অভিযোগ বা মামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা নতুন নয়। তবে ককটেল বা বিস্ফোরক ব্যবহারের কারণে এ ধরনের সংঘর্ষে প্রাণহানি ও গুরুতর আহতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। জাজিরার লাউখোলার ঘটনাতেও একজনের মৃত্যু এবং অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার মধ্য দিয়ে সংঘাতের ভয়াবহতা সামনে এসেছে।
একজন প্রবীণ ব্যক্তির মৃত্যু এবং বেশ কয়েকজনের আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে বিরোধকে কেন্দ্র করে আর কোনো সহিংসতা না ঘটে, সে জন্য কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা ও স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতি শান্ত রাখার উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাও দেখা দিয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ নজরদারি অব্যাহত রাখবে।