চাঁদপুরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৩

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪ বার
চাঁদপুরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৩
প্রকাশ: ১১ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বা অন্যান্য আঞ্চলিক মহাসড়কের মতোই চাঁদপুরের ব্যস্ততম যোগাযোগ মাধ্যমে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের বানিয়াচোঁ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী দ্রুতগামী বাস এবং বিপরীত দিক থেকে ছুটে আসা একটি হাইড্রোলিক বালুবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাসের অন্তত পনেরো জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়ে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। অত্যন্ত ব্যস্ত এই মহাসড়কে ওভারটেক করার চরম প্রবণতা এবং বেপরোয়া গতির কারণে ঘটিত এই আকস্মিক দুর্ঘটনা গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর পরই স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নিলেও মর্মান্তিক এই প্রাণহানির ঘটনায় চারদিকে এক কান্নার রোল পড়ে গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে প্রতিদিনের মতো স্বাভাবিক গতিতেই যাত্রীবাহী বাসটি গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের বানিয়াচোঁ এলাকার নিকটবর্তী হওয়া মাত্রই চালকদের একটি বিপজ্জনক ওভারটেক করার মানসিকতা এই ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিপরীত দিক থেকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসা হাইড্রোলিক বালুবাহী ট্রাকটির সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসটির সজোরে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই প্রচণ্ড ছিল যে বাস এবং ট্রাক দুটিই মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর আছড়ে পড়ে ছিটকে যায়। সংঘর্ষের অভিঘাতে যাত্রীবাহী বাসটির সামনের অংশ পুরোপুরি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা তীব্র ধাক্কায় গুরুতর আঘাত পান। বাসের বেশ কয়েকজন যাত্রী ছিটকে বাসের জানালার কাচ ভেঙে বাইরে পড়ে যান এবং অনেকে ভেতরেই আটকা পড়ে গুরুতর জখম হন।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দে আশপাশের গ্রাম ও দোকানপাট থেকে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে নিজ নিজ উদ্যোগে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল এবং শাহরাস্তি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বাসের ভেতরে আটকা পড়া আহত যাত্রীদের একে একে বাইরে বের করে আনেন এবং দ্রুত চিকিৎসার জন্য তাদের শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তিনজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহতদের অনেকের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকেরা। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহত যাত্রীদের তাৎক্ষণিক কোনো পরিচয় বা নাম-পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, তবে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের পরিচয় শনাক্তকরণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শাহরাস্তি থানার সম্মানিত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানান যে এখন পর্যন্ত তিনজন নিহতের সুনির্দিষ্ট খবর পাওয়া গেছে, তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের কেউ কেউ জেলা সদর হাসপাতালেও স্থানান্তরিত হতে পারেন। মহাসড়কে এই ধরনের বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং অতিরিক্ত গতির কারণে প্রায়ই নিরপরাধ মানুষের তাজা প্রাণ ঝরে পড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ী চালকদের আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরালো তদন্ত শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা এমন রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক বিভাগের আরও কঠোর নজরদারি এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত