প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
তথ্যপ্রযুক্তি ও তথ্য নিরাপত্তা পেশাজীবীদের সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক স্বনামধন্য সংগঠন আইএসএসিএ ঢাকা চ্যাপ্টারের আগামী দুই বছরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। সংগঠনের ২০২৬ থেকে ২০২৭ মেয়াদের এই নতুন কার্যনির্বাহী কমিটিতে সভাপতি বা প্রেসিডেন্ট হিসেবে মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ এবং সাধারণ সম্পাদক বা সেক্রেটারি হিসেবে জি. এম. ফারুক আহমেদ নির্বাচিত হয়েছেন। গত সোমবার অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত এই চ্যাপ্টারের বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম এবং এর পাশাপাশি আয়োজিত আনুষ্ঠানিক নির্বাচনের মাধ্যমেই সংগঠনের এই নতুন ও গতিশীল নেতৃত্ব চূড়ান্ত করা হয়। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সুরক্ষা, গভর্ন্যান্স এবং অডিট কার্যক্রমকে আরও বেশি সুসংহত করার প্রত্যয় নিয়ে গঠিত এই নতুন কমিটিকে ঘিরে আইটি সেক্টরের পেশাজীবী মহলে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং জমজমাট এই নির্বাচনে জেনারেল সেক্রেটারি বা সাধারণ সম্পাদক পদে রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। শেষ পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ ভোটের ব্যবধানে তাকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো সংগঠনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পদে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেন জি. এম. ফারুক আহমেদ। অন্যদিকে, নির্বাহী কমিটির অন্যান্য বিভিন্ন পদের বিপরীতে অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় বাকি সকল প্রার্থীরা অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। আইএসএসিএ ঢাকা চ্যাপ্টারের এই নতুন কমিটিতে সহ-সভাপতি বা ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জায়নাল আবেদিন। এ ছাড়াও পরিচালক বা ডিরেক্টর পদে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আহমেদ জাফর সাদেক ভূঁইয়া, ফাহিমা খানম, মো. ওয়াহিদ মুরাদ, কাজী শাকলাইন, ড. নুরুল্লাহ শাহীন, হাসান আল মনসুর, মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এবং মাহবুব উল আলম।

নবগঠিত এই কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক এবং কোষাধ্যক্ষ বা ট্রেজারার পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় এই শূন্য পদগুলো পরবর্তীতে কোয়াপ্ট বা বিশেষ মনোনয়নের মাধ্যমে দ্রুত পূরণ করার জন্য অনুষ্ঠিত সভায় সর্বসম্মতভাবে একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত সেক্রেটারি জেনারেল জি. এম. ফারুক আহমেদ সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্যের কথা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বলেন যে, এই নির্বাচনে কেউ জয়ী হয়েছেন বা কেউ পরাজিত হয়েছেন, সেই ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে বিজিত ও বিজয়ী সকল সদস্যকে একসঙ্গে নিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আইএসএসিএ ঢাকা চ্যাপ্টারের সামগ্রিক কার্যক্রমকে আরও বহুগুণ শক্তিশালী এবং গতিশীল করাই তাঁর প্রধান ও একমাত্র লক্ষ্য। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পেশাজীবীদের পেশাগত মানোন্নয়ন এবং একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে তিনি সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

আইএসএসিএ ঢাকা চ্যাপ্টারের নতুন এই নেতৃত্ব সংগঠনের পরিধি বিস্তার এবং এর সার্বিক মানোন্নয়নে বেশ কিছু সুদূরপ্রসারী ও সময়োপযোগী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে সংগঠনের সদস্য সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা, দেশের তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবীদের পেশাগত দক্ষতা ও জ্ঞান আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, নিয়মিত জ্ঞান চর্চার একটি সুমঠ ও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং সদস্যবৃন্দের একে-অপরের মধ্যে পারস্পরিক পেশাগত সম্পর্কের একটি সুদৃঢ় সেতুবন্ধন তৈরি করা তাদের মূল অগ্রাধিকার। এর পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নিত্যনতুন উদ্ভাবনী কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং সংগঠনের সকল সাধারণ সদস্যদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রমের পরিধি আরও বৃদ্ধি করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। দেশের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন এবং সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবিলায় আইএসএসিএ ঢাকা চ্যাপ্টারের এই নতুন নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।