বিসম্বরপুরের অমলিন সৌন্দর্য ও সরল মানুষের জীবনযাত্রা: হারিয়ে যাওয়া প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়া এক শান্তি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬৫ বার

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৫। নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সুনামগঞ্জ জেলার বিসম্বরপুর অঞ্চলটি প্রকৃতির এক অপরূপ উপহার, যেখানে মানুষের জীবনযাপন এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ একাত্ম হয়ে গেছে নিপুণ সৃষ্টির মতো। এখানে ঘেরা আছে শীতল বন, সবুজ উপবন, প্রসারিত জলাশয় আর নদী-নদীর নীরব স্রোত, যা এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করেছে। বিসম্বরপুরের জীবনমান অন্য এলাকার তুলনায় অনেকটাই সরল, শান্ত এবং সহজ। এই সরলতা এবং প্রাকৃতিক সমৃদ্ধি এখানকার মানুষের নিত্যদিনের জীবনে মিশে রয়েছে।

অন্যদিকে, যোগাযোগের ক্ষেত্রে কিছুটা কষ্ট থাকলেও, এই অদূরদর্শী সীমাবদ্ধতাই যেন এখানকার প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের সাক্ষী। পথপান্না খাটো, নৌকা ছাড়া চলাচলের উপায় সীমিত—তবে তাতেও গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও আত্মিক বন্ধন আজও অক্ষুণ্ণ রয়েছে। এলাকা বিশেষত ভ্রমণপ্রিয় এবং প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়, কারণ বিসম্বরপুরের অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য ও শান্ত পরিবেশ শুষ্ক ও ব্যস্ত নগর জীবনের ক্লান্তিকে দূর করে এক অমলিন প্রশান্তি দেয়।

বিসম্বরপুরের মানুষের জীবনযাত্রা সরল হলেও তারা প্রকৃতির সঙ্গে মিশে এক গভীর বন্ধনে আবদ্ধ। এখানকার লোকজন অতিথিপরায়ণ, সহজ সরল ও শান্ত স্বভাবের। দিনের কাজ শেষে নদীর তীরে কিংবা উপবনের নীচে মিলেমিশে বসবাস করেন, যেখানে প্রকৃতির কোলে কাটে জীবন। এই এলাকার কিছু অংশে এখনও মাটির রাস্তা, ছোট্ট নৌকাবিহীন সংযোগ থাকলেও মানুষের মধ্যে সম্পর্কের গুণগত মান সেই শিকড় থেকে উঠে আসা বন্ধুত্ব আর সৌহার্দ্যের বহিঃপ্রকাশ।

বিসম্বরপুরে অবস্থিত বেশ কিছু ছোট ছোট উপবন, পুকুর ও নদীর মোহনীয় দৃশ্য ভ্রমণপ্রেমীদের আকর্ষণ করে। এখানকার পান্থপথ পাড়ি দিয়ে যে কেউ সহজেই এই অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে। শীতল বাতাস, শান্ত জলরাশি আর গাছপালার ছায়া সব মিলিয়ে এক প্রশান্তিদায়ক পরিবেশ গড়ে তোলে, যা অতি ব্যস্ত আধুনিক জীবনের মাঝে এক মায়াবী শীতলতা।

এই অঞ্চলের জনজীবন যদিও যোগাযোগের অবকাঠামো উন্নত না হলেও মানুষের আন্তরিকতা, ঐতিহ্য ও সহজ-সরলতা পরিলক্ষিত হয়। এখানকার গ্রামগুলোতে এখনো প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক উৎসব ও সামাজিক বন্ধনের চমৎকার মিলন ঘটে। সেই সঙ্গে, গ্রামবাসীর জীবনে প্রকৃতি ও কৃষি প্রধান ভূমিকা পালন করে, যা তাদের জীবিকা ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বিসম্বরপুর আজও যেমন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের দরজায় দাঁড়িয়ে আছে, তেমনি এক শান্ত, সরল ও ঐতিহ্যমণ্ডিত জনজীবনের নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত। আধুনিকতার ছোঁয়া আসতে শুরু করলেও, এখানকার মানুষ এবং প্রকৃতির অনন্য মেলবন্ধন অটুট রয়েছে।

এই অঞ্চলকে পরিবেশবান্ধব পর্যটন ও টেকসই উন্নয়নের আওতায় এনে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা যদি জোরদার হয়, তাহলে বিসম্বরপুর হতে পারে দেশের এক অনন্য প্রাকৃতিক রত্ন এবং শান্তির আশ্রয়। কারণ প্রকৃতির সুরক্ষা আর মানব সংস্কৃতির মেলবন্ধন এখানকার সবচেয়ে বড় সম্পদ, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ জরুরি।

বিসম্বরপুরের এই নির্জন ও প্রাকৃতিক শোভা, সরল মানুষের অকৃত্রিম মমতা ও ঐতিহ্য যেন আজও হারিয়ে যায়নি। বরং প্রতিটি মৌসুমে এখানকার শান্ত পরিবেশ মানুষকে নতুন করে প্রকৃতির কাছে ফিরিয়ে নিয়ে আসে — যেখানে মানুষের জীবন ও প্রকৃতি একসাথে নিপুণভাবে গড়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত