প্রকাশ: ১১ আগস্ট ‘২০২৫ । বাংলাদেশ ডেস্ক
রাজউক প্লট বরাদ্দকে কেন্দ্র করে দায়ের করা পৃথক তিনটি দুর্নীতির মামলায় দুর্নীতির পরীক্ষণ ও তদন্ত কমিশন (দুদক) কর্মকর্তা তিনজন এই মামলার বাদী হিসেবে ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সোমবার বিচারক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ কোর্টে এ সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষ্যদানের সময় আসামিপক্ষের কোন আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো জেরা বা প্রতিক্রিয়া হয়নি।
দুদকের করা এ সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন, সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া এবং এস এম রাশেদুল হাসান; প্রত্যেকেই তিনটি মামলায় পৃথকভাবে বাদী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনজনের জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত আগামী ২৬ আগস্ট প্রতিটি মামলায় আরও ১৫ জন করে সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছেন। মামলার প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এই তিনটি মামলায় গত ৩১ জুলাই চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ওই আদালত। ওই উপলক্ষে আসামিদের মধ্যে অনেকে পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পৃথক তিন মামলায় মোট আসামি সংখ্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে: শেখ হাসিনা সহ ১২ জন, সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৭ জন এবং সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল) সহ ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
দুদক এই প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত দুর্নীতির জন্য চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে পৃথকভাবে ছয়টি মামলা দায়ের করে। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, রেহানার অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ অনেকে আসামি করা হয়। মামলার সুবাদে সম্প্রতি সবগুলো মামলায় অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে; এ মধ্যে তিন মামলায় আজ সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হলো।
মামলার অন্যান্য অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক (ববি), জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপ-পরিচালক হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিনসহ আরও ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদক ও আদালত পর্যায়ে চলমান এই মামলা জাতীয় রাজস্ব ও সরকারি জায়গার বরাদ্দের স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক দায়িত্বশীলতা এবং উচ্চপর্যায়ের অনিয়ম ও জড়িততার অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগপত্র ও মামলা নথিতে যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে তা এখন বিচারের পর্যায়ে যাচাই-বাছাই হবে; সাক্ষ্যগ্রহণ, কাগজপত্র যাচাই ও ধার্যকৃত সাক্ষীদের জবানবন্দি আদালতের কাছে সিদ্ধান্ত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে। অভিযুক্তরা যদি সদ্য দাখিল করা অভিযোগপত্র ও সাক্ষী পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে প্রতিরক্ষা গঠন করে, তাও বিচারের অংশ হবে; অন্যথায় আদালত প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেবে।
মামলার পরবর্তী সূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ আগস্ট আরও বিস্তৃত সাক্ষ্যগ্রহণ চলবে, যা মামলার গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হবে। বিচারপ্রক্রিয়া ও তদন্তে প্রকাশিত নতুন তথ্য অনুযায়ী পরবর্তীতে মামলার ধারাপ্রবাহ ও আদালত কার্যক্রম কিভাবে এগোবে তা নিশ্চিত হবে।