খুলনায় রাতের আঁধারে ১৫ আগস্টের পোস্টারিং, বিক্ষুব্ধ জনতার প্রতিক্রিয়া ও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় নতুন অগ্রগতি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫৩ বার

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

খুলনায় ১৫ আগস্ট জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে রাতের আঁধারে পোস্টার সাঁটানোর ঘটনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সোমবার রাতে নগরীর খালিশপুর ও খানজাহান আলী থানা এলাকায় দেয়াল ও বিদ্যুতের খুঁটিতে এসব পোস্টার লাগানো হয়। পরে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা পোস্টারগুলো ছিঁড়ে ফেলে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দেখা যায়, পোস্টারগুলোতে বঙ্গবন্ধুর ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলির পাশাপাশি লেখা ছিল—“তোমার আদর্শের শক্তি দিয়ে প্রিয় মাতৃভূমিকে অপশক্তি মুক্ত করবই”। পোস্টারে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত ব্যক্তিদের ছবিও সংযোজন করা হয়েছিল।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৈমুর ইসলাম জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন, বিশেষ করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু নেতা-কর্মী জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে থেকে এ ধরনের পোস্টারিং কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। তিনি আরও বলেন, গোপনে সক্রিয় থাকা কিছু ব্যবসায়ীও এসব কর্মসূচির অর্থায়ন করছে বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ এসব তথ্য মাথায় রেখে ঘটনাসংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জানা যায়, গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর খুলনার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে যায় এবং অনেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে বেশিরভাগই জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা শুরু করে। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ২৩ এপ্রিল নগরীর সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এম মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গোয়েন্দা সংস্থা তার মোবাইল ফোন বিশ্লেষণ করে দেখতে পায়, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ হেলাল উদ্দিন, শেখ জুয়েলসহ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও জুম অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করেছেন। এছাড়া তার ব্যাংক হিসাব ও কল রেকর্ডে অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ মেলে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার অনুমতি চায় এবং অনুমতি পাওয়ার পর সোমবার অন্তর্বর্তী সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করে ডিবি পুলিশ।

এদিকে, গত ৯ আগস্ট শুক্রবার নাশকতা মামলায় খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি শেখ সাকিবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে সোনাডাঙ্গা থানাধীন আলীর ক্লাব সংলগ্ন হোটেল তাজমহল থেকে আটক করা হয়। সাকিবের বাড়ি সোনাডাঙ্গা গীর্জা রোডে, তিনি স্থানীয় বাসিন্দা শেখ আ. জব্বারের ছেলে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, ১৫ আগস্টের মতো সংবেদনশীল দিবসকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং গোপন সংগঠিত তৎপরতা আবারও দৃশ্যমান হচ্ছে, যা খুলনার বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পোস্টারিং শুধু রাজনৈতিক বার্তা বহন করে না, বরং ক্ষমতা পুনর্দখলের ইঙ্গিতও দেয়, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত