প্রকাশ: ১২ আগস্ট’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
রাজধানীর মৌচাকের ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পার্কিং এলাকায় দাঁড়ানো একটি প্রাইভেটকার থেকে উদ্ধার হওয়া দুই মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। নিহতরা হলেন নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ জাকির হোসেন (২৮) এবং মিজানুর রহমান মিজান (৩২)। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গাড়ির ভেতরে ফেলে রাখা হয়েছে।
নিহত জাকিরের বাবা আবু তাহের অভিযোগ করে বলেন, “আমার বিশ্বাস, আমার ছেলেকে হত্যা করে ওই গাড়ির মধ্যে রেখে গেছে। আমি সরকারের কাছে দাবি করছি, আমার ছেলে ও তার বন্ধুর হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।” তিনি জানান, জাকির পেশায় একজন গাড়িচালক ছিলেন। শনিবার সকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে রোগী দেখার কথা বলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। রোগী দেখার পর, আদম কারবারিরা জাকিরকে পল্টনের একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে পৌঁছে দিতে বলে।
আবু তাহেরের ভাষ্যমতে, তার ছেলে আমেরিকা যাওয়ার জন্য ওই ট্রাভেল এজেন্সিতে ২৫ লাখ টাকা প্রদান করেছিলেন। এরপর থেকে বিদেশে পাঠানোর কথা তুললেই ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যুক্ত মিরাজ, বজলু, ইমন, রাশেদ ও ফরহাদ নামের কয়েকজন বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি দিত। নিহত জাকির নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার লট পটিয়া খামার বাড়ির বাসিন্দা ছিলেন। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মেজ।
অপর নিহত মিজানুর রহমান মিজান সম্পর্কে তার মামা মো. জাহেদ আহমেদ জানান, মিজানুর কৃষিকাজসহ গ্রামের অন্যান্য পেশায় যুক্ত ছিলেন এবং ড্রাইভিং শেখার জন্য জাকিরের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। মিজানুরের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার দক্ষিণ বোমাতলী গ্রামে। তার বাবা মৃত আব্দুল হাকিম।
ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারকারী রমনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আওলাদ হোসেন জানান, সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বেজমেন্ট-২ এ পার্ক করা প্রাইভেটকার থেকে দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে। এই হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে, পুরো ঘটনাটি নোয়াখালীর চাটখিল ও আশপাশের এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে, যেখানে স্থানীয়রা দ্রুত বিচার দাবি করছেন।
এই হত্যাকাণ্ডে বিদেশে যাওয়ার প্রলোভন, বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন এবং তার পরবর্তী রহস্যজনক মৃত্যু — সব মিলিয়ে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে একটি জটিল ও সংবেদনশীল মামলায় পরিণত হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের অগ্রগতি প্রকাশিত হলে প্রকৃত ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ধারণা।