প্রকাশ: ১৩ আগস্ট । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বৈশ্বিক হালাল পণ্যের বাজারে ক্রমবর্ধমান সুযোগ কাজে লাগাতে হালাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক স্থাপনের জন্য মালয়েশিয়ার সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে দেশটির হালাল শিল্প খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এই প্রস্তাব দেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আলোচনায় তিনি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে বাংলাদেশের হালাল শিল্পের সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।
বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের হালাল বিষয়ক সমন্বয়কারী দাতিন পদুকা হাজাহ হাকিমাহ বিনতে মোহাম্মদ ইউসুফ। উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট বিভাগের (জাকিম) মহাপরিচালক সিরাজুদ্দিন বিন সুহাইমি এবং হালাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (এইচডিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাইরোল আরিফাইন সাহারি।
মালয়েশিয়ার কর্মকর্তারা বৈঠকে উল্লেখ করেন, বর্তমানে বৈশ্বিক হালাল পণ্যের বাজারের আকার প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এটি ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ায় ১৪টি হালাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করেছে। প্রতিযোগিতায় রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। তাদের মতে, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যথাযথ অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক মানের সনদ প্রদানের সক্ষমতা অর্জন করলে এই বাজারে বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।
বর্তমানে বাংলাদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনই একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যা হালাল সনদ প্রদান করে থাকে। এখন পর্যন্ত মাত্র ১২৪টি প্রতিষ্ঠান এই সনদ পেয়েছে, যা বাজারের সম্ভাবনার তুলনায় খুবই সীমিত। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশের হালাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক স্থাপনে প্রয়োজনীয় চাহিদা চিহ্নিত করতে সহায়তার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একসঙ্গে কাজ করে হালাল শিল্প বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় রূপরেখা তৈরি করা সম্ভব হবে, যা রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়াতে সহায়ক হবে।
আলোচনায় ড. ইউনূস বৈঠকটিকে ‘একটি মূল্যবান শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “আপনাদের কাছ থেকে যে তথ্য ও জ্ঞান পেলাম, তা যেন হালাল শিল্প নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পাঠ।” তিনি আরও যোগ করেন, “চলুন, আমরা এই বিষয়ে একসাথে এগিয়ে যাই।”
মালয়েশিয়ার জাকিম মহাপরিচালক সিরাজুদ্দিন বিন সুহাইমি জানান, বাংলাদেশের প্রয়োজনীয়তা নিরূপণে শিগগিরই একটি প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং এসডিজি বিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ।