সাদা পাথর লুট রোধে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪৬ বার
সাদা পাথর লুট রোধে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট

প্রকাশ: ১৪ অগাস্ট’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জে সাদা পাথর লুটপাটের ঘটনার প্রেক্ষিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপে গাফিলতির অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মীর একেএম নূরুন নবী। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভোলাগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং দেশের অন্যতম পাথরের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত এই এলাকা থেকে অবৈধভাবে সাদা পাথর উত্তোলন করে একশ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি ও চক্র বছরের পর বছর বিপুল অর্থের লেনদেন করছে। এতে প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসের পাশাপাশি পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। অথচ প্রশাসন এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

রিটে আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিতে এবং ভোলাগঞ্জ এলাকায় অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করতে। একইসঙ্গে, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে রুল জারি করার আবেদনও জানানো হয়েছে।

আইনজীবী মীর একেএম নূরুন নবীর আবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে শুধু কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলায়ই বিপুল পরিমাণ পাথর অবৈধভাবে তোলা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সামনেই দিনের আলোতে এসব কর্মকাণ্ড চলেছে, অথচ তাদের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর অভিযান বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ কারণে অবৈধ খননকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং স্থানীয় প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ও সচেতন মহল দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে সোচ্চার। তারা বলছেন, পাথর লুটপাট বন্ধ না হলে সিলেটের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। পাশাপাশি, পাথর উত্তোলনের কারণে নদীভাঙন, ভূমিক্ষয় ও পানির প্রবাহ পরিবর্তনসহ নানা পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটছে, যা ভবিষ্যতে এলাকাবাসীর জীবনে আরও বড় ধরনের দুর্ভোগ বয়ে আনবে।

এই পরিস্থিতিতে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা এখন সবার নজরে। আদালত যদি এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেন, তাহলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত